বিটিআরসির পাওনা পরিশোধ সালিশ আইনেই সমাধান চায় গ্রামীণফোন

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

প্রচলিত সালিশি আইনেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা দাবির সমাধান চায় গ্রামীণফোন। দেশের বৃহত্তম অপারেটর ওই অডিটকে ত্রুটিপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছে।

অডিটে দাবি করা অর্থ আদায়ে বিভিন্ন প্রকার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান স্থগিত করেছে বিটিআরসি। এটাকে জবরদস্তিমূলক কৌশল বলে দাবি করেছে গ্রামীণফোন। গতকাল বৃহস্পতিবার

রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়।

এক নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিটিআরসি বলছে, গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তবে গ্রামীণফোন এই অডিট প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ দাবি করে পাওনা পরিশোধে আপত্তি জানিয়েছে। পরে বিটিআরসি বকেয়া আদায়ে কিছুদিনের জন্য গ্রামীণফোনের ব্যান্ডউইথ আংশিক ব্লক করে রাখে। পরে তা তুলে নেওয়া হলেও নতুন আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র প্রদান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। গ্রামীণফোন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাইলেও বিটিআরসি বলছে, আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। গ্রামীণফোনকে পুরো অর্থই পরিশোধ করতে হবে।

আলোচনা সুযোগ না থাকলে গ্রামীণফোন আদালতে যাবে কি-না জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে অপারেটরটির প্রধান নির্বাহী কর্মকতা (সিইও) মাইকেল ফোলি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন আলোচনার সুযোগ রয়েছে। আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের প্রচলিত সালিশি আইনেই (আরবিট্রেশন ল) উদ্ভূত সমস্যার সমাধান সম্ভব।

এক প্রশ্নের জবাবে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সালিশি আইন অনুসারে তারা আলোচনার জন্য বিটিআরসিকে নোটিশ দিয়েছিল। নোটিশের সময়সীমা ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। আরবিট্রেশন আইন আনুসারে এখন সালিশ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হতে পারে।

সিইও ফোলি বলেন, বিভিন্ন প্রকার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তটি গ্রাহক স্বার্থবিরোধী। এতে গ্রাহকরা মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে মানসম্পন্ন ফোনকল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ডিজিটাল মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধ নিরসনের উপায় হিসেবে কখনই গ্রাহকদের স্বার্থ, জাতীয় অর্থনীতি কিংবা দেশের ভাবমূর্তিকে জিম্মি করা উচিত নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন কার্যক্রমে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গ্রামীণফোনের ভারপ্রাপ্ত চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার হোসেন সাদাত অডিটের 'নীতিগত ও পদ্ধতিগত ত্রুটি' তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে স্পেকট্রাম ব্যবহারের মূল্য বিটিআরসির ডিমান্ড নোটের ভিত্তিতেই করা হয়েছে। অডিটের ফলাফলে বলা হয়েছে, ডিমান্ড নোটের হিসাবে বিটিআরসি ভুল করেছে। তারা গ্রামীণফোনের কাছ থেকে সঠিক পরিমাণে অর্থ আদায় করেনি। এখন গ্রামীণফোনকে এই বকেয়া অর্থ এবং চক্রবৃদ্ধি সুদও প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া ভ্যাট-সংক্রান্ত যেসব বিষয় আদালতে বিচারাধীন, সেগুলোও এই অডিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সালিশ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে তারা সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছেন।