ঈদের দু'সপ্তাহ আগেই বেড়েছে মসলার দাম

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

দু'সপ্তাহ পর ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে বেড়ে গেছে মসলার দাম। এই সময়ে বেশি ব্যবহার হয় এমন পণ্য বিশেষ করে গরম মসলার দাম ঊর্ধ্বমুখী। তা ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাজেটের পরে এক দফা বাড়লেও এখন আবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদা। এ ছাড়া বন্যার প্রভাবে আগের সপ্তাহের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম কিছুটা নিম্নমুখী। অন্যান্য পণ্যের দামে তেমন হেরফের হয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা গরম মসলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। অবশ্য প্রতি বছরই কোরবানির ঈদের আগে মসলার দাম বাড়ে। কারণ এ সময়ে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তবে এবার বেশ আগেই দাম বেড়ে গেছে। বিশেষ করে এলাচের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। গতকাল মানভেদে এলাচ প্রতি কেজি বিক্রি হয় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে এলাচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০০ টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশনের মূল্য তালিকায়ও এলাচের এই দর দেখা গেল। গত বছর টিসিবি প্রকাশিত বাজারমূল্য ছিল এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কেজিতে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রায় এক হাজার টাকা। কারওয়ান বাজারের মসলা বিক্রেতা মো. জলিল সমকালকে বলেন, সারা বছরে এই পণ্যগুলো সীমিত ব্যবহার হয়। ফলে চাহিদা কম থাকে। এ কারণে অন্য সময়ে দামে তেমন হেরফের হয় না। কোরবানির সময়ে দেশজুড়ে ব্যবহার বেড়ে যায়। এতে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দেয়।

শুধু এলাচ নয়; দারুচিনির দামও বাড়তি। কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। গতকাল প্রতিকেজি দারুচিনি মানভেদে ৪০০ থেকে

৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়, যা এক সপ্তাহ আগেও ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ছিল। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ে প্রতি কেজি দারুচিনি ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কেজিতে ৩১ শতাংশ দাম বেড়েছে। এ ছাড়া লবঙ্গের দাম কিছুটা বেড়ে দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য গরম মসলার মধ্যে প্রতি কেজি জিরা ৩৬০ থেকে ৪৫০ টাকা, গোলমরিচ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ধনিয়া ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা ও তেজপাতা দেড়শ' থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলার মধ্যে বেশি চাহিদা থাকা হলুদের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শুকনা মরিচ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বেড়েছে। রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য ১১০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এডিবল অয়েল। অন্যান্য কোম্পানি দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী আবুল কাসেম।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। চীনা রসুনের কেজি ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশি রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া চীনা আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা এবং ইন্দোনেশিয়ার আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।

বন্যার কারণে আগের সপ্তাহের মতো গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামারিচ মানভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। গতকাল ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এ ছাড়া অন্যান্য সবজিরও চড়া দাম। প্রতি কেজি শসা ও টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, জালি, বরবটি পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। করলা আগের মতো ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুরের পীরেরবাগ বাজারের বিক্রেতা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যার প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। রাজধানীর পাইকারি আড়তে সবজি এখন কম আসছে। এ কারণে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। গতকাল প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হয়।

সম্পাদনাঃ সবুজ ইউনুস