নুসরাত হত্যা

পিবিআইর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী

ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার শুনানিকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে কয়েকজন আইনজীবী এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। আদালতে এদিন মোট পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা করা হয়। আগামী রোববার মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

গতকাল সকালে নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে দুপুর ১২টার দিকে তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে আনা হয়। বিচারক এ সময় পিপি হাফেজ আহাম্মদকে সাক্ষীদের এজলাসে আনার নির্দেশ দেন।

সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর পর আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি জাতীয় দৈনিকের কপি প্রদর্শন করেন এবং অভিযোগ করেন, 'এই পত্রিকার একটি খবরে আদালত

অবমাননা হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে পিবিআইর

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিন মন্তব্য করেছেন, নুসরাত হত্যা মামলার সাক্ষীদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।' তিনি প্রকাশিত সংবাদের কিছু অংশ বিচারককে পাঠ করে শোনান। এ সময় আদালতে উপস্থিত আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুল হাসান, আহসান কবির বেঙ্গল, ফরিদ উদ্দিন নয়ন, মাহফুজুল হক, সিরাজুল ইসলাম মিন্টুসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী সমস্বরে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করার দাবি করেন।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে বলেন, দেশে পাঁচ শতাধিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। কোনো পত্রিকার লেখায় তিনি প্রভাবিত হবেন না।

এ সময় সাক্ষীর কাঠগড়ায় থাকা নুসরাত হত্যা মামলার ৪৯ নম্বর সাক্ষী মো. শাহজাহানকে বিচারক প্রশ্ন করেন, 'কেউ আপনাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে?' সাক্ষী বলেন, তাকে কেউ হুমকি-ধমকি দেয়নি। আদালত সাক্ষীর বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

বিচারক এদিন আকরাম হোসেন, এমদাদ হোসেন পিংকেল, মো. শাহজাহান, মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল কাশেম ও সেলিনুর রেজার সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরার শুনানি গ্রহণ করেন। পরে বিচারক পরবর্তী তারিখ রোববার নির্ধারণ করে সাতজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত রাখার নির্দেশ দেন।