ইউএনডিপি-পিআরআইর গবেষণা প্রতিবেদন রোহিঙ্গাদের জন্য বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রোহিঙ্গাদের বিপুল উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় এলাকায় যানবাহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে খেটে খাওয়া মানুষের দৈনিক মজুরি কমে গেছে। ইউএনডিপি ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বড় সংখ্যায় উপস্থিতি বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কাও তৈরি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, খুব দ্রুতই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। এর আগে মিয়ানমারের ভূমিকার কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা একসঙ্গে কক্সবাজারের এসে আশ্রয় নেওয়ার পর খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা বিপুল হারে বেড়েছে। এর ফলে কক্সবাজার এলাকায় প্রায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের আগে মোটা চাল প্রতি কেজির দাম ছিল ৩২ টাকা; পরে হয়েছে ৩৮ টাকা। আটার দাম আগে ছিল ২৮ টাকা; পরে হয়েছে ৩৫ টাকা। আলুর দাম ছিল ২২ টাকা; পরে হয়েছে ৩০ টাকা। লবণের দাম আগে ছিল ২২ টাকা; পরে হয়েছে ২৫ টাকা। বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির দাম গড়ে প্রতি কেজি ছিল ২৫ টাকা; পরে হয়েছে ৩০ টাকা। প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ছিল ৪৪০ টাকা; এখন হয়েছে ৫০০ টাকা। বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম আগে গড়ে ছিল ১৩০ টাকা প্রতি কেজি; পরে হয়েছে ১৫০ টাকা।



প্রতিবেদনে বলা হয়, এর পাশাপাশি খেটে খাওয়ার মানুষের দৈনন্দিন মজুরিও কমে গেছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের আগে একজন কৃষি মজুরসহ অন্যান্য দিনমজুরের গড়ে প্রতিদিন আয় ছিল ৪১৭ টাকা। সেই আয় কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ টাকা। সার্বিকভাবে টেকনাফ উপজেলায় দিনমজুরের আয় কমেছে ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ, উখিয়া উপজেলায় আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং কক্সবাজার জেলার অন্য অংশে আয় কমেছে ৬ দশমিক ৬৭ অংশ। এ এলাকায় ২ হাজার ৫০০ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে এবং ১ হাজার ৩০০শ'র বেশি পরিবার অতিদরিদ্র হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে পরিবেশ বিপর্যয় সম্পর্কে বলা হয়, এরই মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ একর সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ একর বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, 'এর আগে মিয়ানমার বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা না রাখায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু সম্ভব হয়নি। তবে এখন এ প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু হবে বলে আমি আশাবাদী।' তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশকে স্বল্প সংখ্যায় হলেও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বলা হয়েছিল। কেউই রাজি হয়নি। দীর্ঘদিন এ সংকটের বোঝা একা বাংলাদেশ বহনও করতে পারে না। এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজনেই এ সংকটের দ্রুত স্থায়ী সমাধান দরকার।

অনুষ্ঠানে পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, 'বাংলাদেশে এখন বিশ্বের মোট শরণার্থীর ৪ দশমিক ৭ শতাংশ অবস্থান করছে। এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গভীর গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে হবে। এ সংকটের দ্রুত স্থায়ী সমাধানে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও বেশি উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।'

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সিআর আবরার, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, পিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, ইউএনডিপির গবেষণা প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জ্জি। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পিআরআই-এর গবেষণা পরিচালক ড. এমএ রাজ্জাক।