সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

প্রিয়া সাহা যা করেছেন, নিজ দায়িত্বে করেছেন

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ যদি স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের গুম বা নিখোঁজ অর্থে বলা হয়ে থাকে, তবে তা অসত্য। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত এ কথা জানান।

লিখিত বক্তব্যে রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ থেকে তিন কোটি ৭০ লাখ (৩৭ মিলিয়ন) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোক 'ডিজঅ্যাপিয়ার' হয়ে গেছে। 'ডিজঅ্যাপিয়ার' বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

পাকিস্তান আমল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সরকারি তথ্য-উপাত্ত দেখিয়ে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জানান, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অবস্থান থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও বৈষম্য অব্যাহত রয়েছে। তবে গত ১০ বছরে, অন্তত এ সরকারের আমলে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায়

বেশ খানিকটা অগ্রগতি ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে হিন্দু জনগোষ্ঠী আট দশমিক চার শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক সাত শতাংশ হয়েছে।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, গত ১৬ থেকে ১৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের ওয়াশিংটনে 'সেকেন্ড মিনিস্ট্রিয়াল টু অ্যাডভান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম' সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল যোগ দেয়। এ দলে ছিলেন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অশোক বড়ূয়া, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্মল রোজারিও এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি। এ প্রতিনিধি দলে অন্য কেউ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তাদের মধ্যে দু'জন ২১ জুলাই দেশে ফিরে এসেছেন। প্রিয়া সাহা ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। কিন্তু তিনি সাংগঠনিক কোনো সিদ্ধান্ত বা দায়িত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তিনি যা করেছেন তা নিজের দায়িত্বে করেছেন। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিডম হাউসের এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রিয়া সাহাকে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোনো গণমাধ্যমও আমাকে সভাপতি এবং তাকে সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেছে। এসব তথ্যও সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে সাংগঠনিক পরিচিতি নিয়ে সৃষ্ট এমন বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে একে 'সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড' বিবেচনায় গত ২৩ জুলাই প্রিয়া সাহাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকায় ফিরে এলে তার বক্তব্য শুনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে কেউ কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। ব্যক্তির বক্তব্যকে পুঁজি করে সম্প্রদায় বিশেষকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন।

ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিমচন্দ্র ভৌমিকের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য বাসুদেব ধর, নির্মল রোজারিও, কাজল দেবনাথ, সভাপতি রাহুল বড়ূয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি প্রমুখ।