অনেক গুণের গুয়ে বাবলা

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

লেখা ও ছবি :মোকারম হোসেন

আমরা বাবলার ঔষধিগুণের কথা জানি। কিন্তু গয়া বা গুয়ে বাবলাও চমৎকার ঔষধিগুণ সম্পন্ন। হজম ও লিভারের সমস্যায় এ গাছ বেশ কার্যকর। প্রাচীন সংহিতাই শুধু নয়, আধুনিককালেও এ গাছের ব্যবহার কম নয়। বাংলাদেশ জাতীয় আয়ুর্বেদিক ফর্মুলারি ১৯৯২ অনুযায়ী 'বৃহৎ খদির বটিকা'র প্রধান উপাদান হিসেবে গুয়ে বাবলার ছাল ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এ ওষুধ মুখ, ঠোঁট, গলা, তালু, জিহ্বা, মাড়ির ঘা এবং দন্তশূল প্রশমক হিসেবে দেওয়া হয়। ইউনানি ফর্মুলারি ১৯৯৩ অনুযায়ী গুয়ে বাবলাকে কস্ফাথ সফেদ হিসেবে উল্লেখ করে উপদংশ, খোচপাঁচড়া, নালি ঘা ও পচন নিবারক ওষুধের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মধুমেহে গুয়ে বাবলার সার কাঠ ৫-১২ গ্রাম পরিমাণ ভালো করে ছেঁচে আধ লিটার পানিতে সেদ্ধ করে দু'কাপ পরিমাণ

হলে নামিয়ে ছেঁকে ওই রসটুকু দুই থেকে তিনবার খেলে উপকার হবে। স্বরভঙ্গ হলে এ গাছের ছালচূর্ণ বা ছালের রস বের করে শুকিয়ে বড়ির মতো বানিয়ে চুষে খেলে উপকার হয়। গুয়ে বাবলার কচিপাতার রস, আয়ু বল ও যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন একটি করে পাতা খেলে চুল পড়া কমে এবং ঘন ও কালো হয়। স্নায়ু শক্তি বৃদ্ধি ও শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে বাবলা পাতার রস বেশ কার্যকর। বাবলার বাকল ও পাতার রসে আছে অ্যালকালয়েডস, যা আমাদের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তা ছাড়া কচিপাতা গনোরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহূত হয়।

গুয়ে বাবলা ঋধনধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। এই গাছের (অপধপরধ ভধৎহবংরধহধ) আদি নিবাস আমেরিকা।

এই গাছ সর্বোচ্চ ২৪-৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর কাণ্ড সরল এবং গাছের উপরিভাগ ছাতার মতো বিস্তৃত। বড় গাছগুলো বেশ ঝোপের মতো মনে হয়।

কাণ্ড অত্যন্ত শক্ত। বাকল ফাটা ফাটা এবং ধূসর বর্ণের। কাণ্ড থেকে প্রচুর কাঁটা জন্মে। কাঁটাগুলো বেশ খাড়া। পাতা দ্বিপক্ষল, এক থেকে দেড় ইঞ্চি লম্বা হয়। পত্রিকার রঙ সবুজ। শীতকালে পুরনো পাতার গোড়া থেকে ফুল ফোটে। ফুলের রঙ উজ্জ্বল পীতবর্ণ ও সুগন্ধযুক্ত। ফুলের ব্যাস হয় প্রায় আধ ইঞ্চি। ফল হয় বর্ষাকালে। শুঁটি ২-৩ ইঞ্চি লম্বা হতে পারে। বাংলাদেশে এই গাছ প্রচুর দেখা যায়।