ঘুষের টাকা ভাগাভাগির সময় অভিযান

রাজশাহীতে কাস্টমস কর্মকর্তার বাসা থেকে গ্রেফতার ৬

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

রাজশাহী ব্যুরো ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর রাজশাহীর বাসায় ঘুষের টাকা ভাগাভাগির সময় অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই সময় সেখান থেকে ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৭ হাজার ডলার, গুলিসহ একটি পিস্তল, মদের বোতলসহ সাতজনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন- মনিরুল ইসলাম জুয়েল, আবু সাইদ নয়ন, আহসানুল কবির মিঠু, বায়েজিদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, আবুল হাসান রুবেল ও আব্দুল মালেক। তারা সবাই সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানিকারক। পরে বৃহস্পতিবার গুলিসহ অস্ত্রের মালিক আব্দুল মালেককে ছেড়ে দেওয়া হয়। মামলা দায়েরের পর বাকিদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নগরীর উপশহর এলাকার ১৭১ নম্বর বাসায় বাস করেন কাস্টমস কর্মকর্তা আইয়ুব আলী। তার বাড়িতে প্রতিদিনই ঘুষের টাকা ভাগাভাগি ও মদপানের আসর বসত। সেখান থেকে ভাগাভাগির অর্থ চলে যেত কাস্টমস কমিশনার মজিবুর রহমান, সহকারী কমিশনার বেলাল হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তার কাছে। সূত্র জানায়, কাস্টমস কমিশনার মজিবুর রহমানের চাকরির মেয়াদ আর মাত্র এক মাস বাকি। শেষ সময়ে বেশি টাকা আয়ের জন্য রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ আদায় করছেন তিনি। গত বুধবারও মনিরুল ইসলাম জুয়েল নামে এক ব্যবসায়ী ভারত থেকে দুই ট্রাক প্রসাধন সামগ্রী আমদানি করেন। হিসাবমতে, এ পরিমাণ পণ্যের রাজস্ব হওয়ার কথা প্রায় ৮০ লাখ টাকা।

কিন্তু বিশেষ ব্যবস্থায় মাত্র ২০ লাখ টাকার শুল্ক্ক পরিশোধ করেই তাকে পণ্য খালাস করতে দেওয়া হয়। পরে রাজশাহীতে কাস্টমস কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর বাসায় গিয়ে আরও ২০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল তার। এমন খবর পেয়েই ওই বাড়িতে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ।

বন্দর সূত্র জানায়, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে অহেতুক সরকারি হয়রানির কারণে আমদানি ও রাজস্ব কমছে বলে দাবি করে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে বুধবারের ঘটনায় বন্দরের রাজস্ব কমার কারণ হিসেবে কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের ঘুষবাণিজ্য ও দুর্নীতির বিষয়টি বের হয়ে এসেছে। গত তিন মাসে ভারত থেকে ৪৭ ট্রাক প্রসাধন সামগ্রী আমদানি করা হয়েছে। পণ্যের প্রকারভেদে প্রতিটি ট্রাক থেকে ৭০ থেকে ৯০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা। কিন্তু কর্মকর্তাদের সহায়তায় আমদানিকারকরা এ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছেন। এ কাজে আমদানিকারকদের সহায়তা করেন বন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার বেলাল হোসেন ও পরিদর্শক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান।

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরেননি রাজশাহী বিভাগীয় কাস্টমস কমিশনার মজিবুর রহমান। তবে বন্দরের সহকারী কমিশনার বেলাল হোসেন সমকালকে জানান, স্থলবন্দরে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বন্দর এলাকার ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই বুধবার রাতে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বাসার মালিক কাস্টমস কর্মকর্তা আইয়ুব আলীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে আইনের আওতায় নেওয়া হলেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হতো।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মন বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, আটক সাতজনের মধ্যে অস্ত্র বহনকারী আব্দুল মালেককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে পরে আসেন, আর তার অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে বিদেশি মুদ্রা (ডলার) অবৈধ কাজের জন্য অবৈধভাবে বহনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় তাদের গ্রেফতারও দেখানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলায় রাজস্ব কর্মকর্তা আইয়ুব আলীকে আসামি করা হয়নি। তবে এজাহারে তার নাম রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।