ছায়ানটে দু'দিনব্যাপী নজরুল উৎসব শুরু

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

কাজী নজরুল ইসলামের গান দিয়ে সাজানো সঙ্গীতের আসর। আয়োজক ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় কবি স্মরণে শুরু হয়েছে সংগঠনটির দু'দিনব্যাপী নজরুল উৎসব। প্রখ্যাত থেকে নবীন শিল্পীদের কণ্ঠের সুরসুধায় মুখর হয়েছে ধানমণ্ডির ছায়ানট-সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তন। গানের সঙ্গে পরিবেশিত হয়েছে কবিতার শিল্পিত উচ্চারণ। সুরের তালে উপস্থাপিত হয়েছে নান্দনিক নাচ।

গতকাল শুরু হওয়া উৎসবের প্রথম দিন ছিল নৃত্যগীত ও আবৃত্তির সমন্বিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। উদ্বোধনী সম্মেলক নাচ-গানে শুরু হয় পরিবেশনা পর্ব। একদল গেয়ে শোনায় 'আনো আনো অমৃত বারি' গানটি। এর সুরের তালে নৃত্যশিল্পীরা নেচে বেড়ায় মঞ্চজুড়ে।

নাচ-গানের যুগলবন্দি পরিবেশনের স্বাগত কথনে অধ্যাপক ভীষ্ফ্মদেব চৌধুরী জাতীয়তাবাদী ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে কবি নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

সঙ্গীত আসরে শিল্পীরা গেয়ে শোনান নজরুলের একগুচ্ছ গান। নাওশিন তাবাসসুম অমি পরিবেশন করেন 'অন্তরে তুমি আছো চিরদিন'। সুপ্তিকা মণ্ডল গেয়ে শোনান 'এ নহে বিলাস বন্ধু'। নুসরাত জাহান রুনার কণ্ঠে গীত হয় 'হাসে আকাশে শুকতারা'। সুমন চৌধুরীর গাওয়া গানের শিরোনাম ছিল 'মধুর নূপুর রুমুঝুমু বাজে'। সৈয়দা সনজিদা জোহরা বীথিকা কণ্ঠে তুলে নেন 'নয়নে নিদ নাহি'। ঐশ্বর্য সমদ্দার পরিবেশন করেন 'গগনে সঘন চমকিছে'। তানভীর আহমেদ শুনিয়েছেন 'ঐ ঘর ভোলানো সুরে'। আনিলা আমীর লামীর গেয়ে শোনান 'মালা গাঁথা শেষ না হতে'। বিটু কুমার শীল শুনিয়েছেন 'সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে'। নাহিয়ান দুরদানা শুচি গেয়েছেন 'বধূ, আমি ছিনু বুঝি'। বিভাষ রঞ্জন মৈত্র শুনিয়েছেন 'আগুন জ্বালাতে আসিনি'।

এ ছাড়া একক কণ্ঠে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফেরদৌস আরা, জান্নাত-এ-ফেরদৌস লাকী, শামিমা পারভীন শিমু, সুমন মজুমদার, ইয়াকুব আলী খান, লতিফুন জুলিও প্রমুখ। নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী জয়ন্ত রায়।

উৎসবের প্রথম দিন একক নৃত্য পরিবেশন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ম্প্রভা তাথৈ। সমবেত কণ্ঠের পরিবেশনায় ছায়ানটের শিল্পীরা গেয়েছেন নজরুলের 'মোর ঘুমঘোরে এলে' ও 'কে দিল খোঁপাতে'।

আজ শুক্রবার উৎসবের শেষ দিন অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।