গৌরীপুরে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে বখাটের বিরুদ্ধে। উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় পাপিয়া সুলতানা নামে ওই স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে বখাটে জহিরুল ইসলাম। স্থানীয়রা আহত ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে বিকেল পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

উপজেলার অচিন্ত্যপুর ইউনিয়নের চড়াকোনা গ্রামের কৃষক আবুল হাসিমের মেয়ে পাপিয়া সুলতানা ডক্টর এমআর করিম উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত একই গ্রামের জহিরুল ইসলাম। এক সন্তানের জনক জহিরুলের বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশে হওয়ায় তাকে কেউ দমাতে পারছিল না। ছাত্রীরা কয়েক দফায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালে তাতেও কাজ হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কোচিং করতে বাড়ি থেকে বের হয় পাপিয়া। পথে পাপিয়াকে ছুরিকাঘাত করে পাশে ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায় জহিরুল। আহত পাপিয়া জানায়, জহিরুল বিভিন্ন সময় তাকেসহ সহপাঠীদের উত্ত্যক্ত করত। এতে প্রতিবাদ করায় তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল জহির। কোচিংয়ে যাওয়ার পথে জহিরুল তার এক সহযোগীকে নিয়ে পিছু ধাওয়া করে তাকে ছুরিকাঘাত করে।

পাপিয়াকে ছুরিকাঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল সাড়ে

১১টার দিকে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন অচিন্ত্যপুর বাজারে গৌরীপুর-শাহগঞ্জ সড়ক অবরোধ ও জহিরুলের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেন। ওই সময় গৌরীপুর থানার

ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

এমআর করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাইফুল ইসলাম বলেন, বখাটে জহিরুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছাত্রীরা। ২০১৭ সালে একবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে খুঁজতে শুরু করলে পালিয়ে যায় জহির। এর পরও বখাটেপনা বন্ধ করেনি জহিরুল। এবার সে ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে। তিনি দ্রুত জহিরুলের গ্রেফতার দাবি করেন।

গৌরীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মাওলা বলেন, অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।