ক্রেতার কাছে পৌঁছে শুধু খালি বাক্স

অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারক চক্রের ১৩জন গ্রেফতার

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

সাহাদাত হোসেন পরশ

কোনো কিছু কেনার জন্য অনলাইনে অর্ডার করছেন! এখন থেকে কিছু কেনার আগে আরও যাচাই-বাছাই করে দেখবেন। সেটা না হলে যা কিনতে চাচ্ছেন তার পরিবর্তে নিম্নমানের জিনিস আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যেতে পারে। বাসায় আসার পর মাথায় হাত রাখা ছাড়া কোনো উপায়ও থাকবে না। এমনকি অর্ডার দেওয়া জিনিসের পরিবর্তে বাসায় স্কচটেপে মোড়ানো খালি প্যাকেটও চলে যেতে পারে। কারণ সংঘবদ্ধ চক্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেজ খুলে প্রতারণা করে আসছে। এমন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ১৩ জনের একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগ। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই চক্রের কাছ থেকে অনেক মোবাইল ফোনসেটসহ নানা আলামত জব্দ করা হয়েছে।

চক্রের সদস্যরা হলো- ওমর আলী, সজিব শেখ, সোহেল রানা, সৌরভ মজুমদার, অমিত হাসান, ইসাহাকুল ইসলাম আশিক, আব্দুল করিম, রিয়াজুল জাহান জিনিল, রাকিবুল হাসান, মো. রাব্বি, শরিফুল ইসলাম, বলরাম মণ্ডল ও মো. হাবিব। তাদের কাছ

থেকে ৯১টি মোবাইল, পাঁচটি ল্যাপটপ, একটি পিসি, একটি প্রিন্টার, নিম্নমানের শাড়ি ৩০টি, থ্রিপিস ১০টিসহ বিভিন্ন পণ্য এবং প্যাকেজিং মালপত্র জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এরই মধ্যে তারা অনলাইন কেনাকাটার জন্য বেশকিছু পেজ খুলেছে। যেসব পেজে তারা প্রতারণার ফাঁদ পাতত। পেজগুলোর মধ্যে রয়েছে মীম ফ্যাশন, নিউ ফ্যাশন বিডি, কে জেড ফ্যাশন, রোজ ফ্যাশন বিডি, বিক্রয় বাজার বিডি, ইন্ডিয়ান থ্রিপিস গ্যালারি, সাদমার্ট বিডি, এসএম ফ্যাশন, স্টাইল জোন-১০, এম জেড ফ্যাশন, স্নিগ্ধা ফ্যাশন, সঞ্জু ফ্যাশন, শাড়িজ হাউস, বিশ্ববাজার ও ব্র্যান্ড শপ। গুগল থেকে ছবি ডাউনলোডের পর এডিট করে পেজে আপলোডের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করত তারা। ক্রেতারা যে পণ্যেরই অর্ডার করুন না কেন প্রতারকরা তাদের কাছে থাকা নিম্নমানের এবং কমদামি ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহ করে। কখনও কখনও তারা খালি বাক্স স্কচটেপে পাঠিয়ে থাকে। প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের জালিয়াতি করে আসছে। কিছুদিন পরপর প্রতারণার জন্য খোলা ফেসবুক পেজগুলো ডিলিট করে আবার নতুন পেজ খোলে। নতুন করে প্রতারণা চালিয়ে যায়।

প্রতারণার শিকার এক নারী জানান, সম্প্রতি তিনি একটি নীল ও একটি বেগুনি রঙের গাউন অনলাইনে অর্ডার করেন। ওই দুই গাউনের পরিবর্তে প্রতারক চক্র অতি নিম্নমানের দুটি শাড়ি এসএ পরিবহনের মাধ্যমে পাঠায়। পুরো টাকা পরিশোধ সত্ত্বেও সম্পূর্ণ ভিন্ন নিম্নমানের পণ্য পেয়ে প্রতারিত হন তিনি। অনলাইনে তাদের ঠিকানা দেওয়া থাকলে সেখানে যোগাযোগ করে কোনো অফিস পাওয়া যায়নি। কয়েক দিন পর ওই অনলাইন পেজও উধাও হয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় মামলা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের ডিসি মীর মোদ্‌দাছছ্‌ের হোসেন সমকালকে বলেন, যারা অনলাইনে প্রতারণা করে তাদের একেক জনের কাছে ৫০টির বেশি সিম পাওয়া গেছে। তারা একেকটি নম্বর কিছু দিন ব্যবহার করে আবার বন্ধ করে দেয়। এভাবে প্রতারক চক্র সক্রিয় থাকলে অনলাইন কেনাকাটায় মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।

সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের এডিসি মাহমুদা আফরোজ লাকি বলেন, অনেকে রয়েছে অনলাইনে পেজ খুলে সততার সঙ্গে ব্যবসা করছেন। তবে প্রতারক চক্রের কারণে যারা সৎভাবে ব্যবসা করছেন তারা ঝুঁকিতে পড়বেন।

সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের সহকারী কমিশনার আশরাফ উল্লাহ বলেন, গ্রেফতার প্রতারক চক্রের অধিকাংশ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র। এমন চক্রের আরও কিছু সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।