শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি কোন্দলের পর মামলার রায়ে নেতৃত্বশূন্য ঈশ্বরদী বিএনপি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা)

দলীয় কোন্দল ও অসংখ্য মামলায় জর্জরিত হয়ে অনেকটা নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদী বিএনপি। এরই মধ্যে বুধবার ২৫ বছর পর ঈশ্বরদীর বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলিবর্ষণ মামলার রায়ে দলটির ৪৭ নেতাকর্মীর সাজার আদেশ হয়েছে। ফলে ঈশ্বরদীতে সংকটের মুখে পড়েছে বিএনপির রাজনীতি। বুধবার শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে হামলা ও গুলিবর্ষণের মামলায় ঈশ্বরদী বিএনপির ৯ নেতাকর্মীর মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন ও ১৩ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। তারা সবাই দলের প্রথম ও দ্বিতীয় সারির নেতা ও সক্রিয় কর্মী।

ঈশ্বরদী বিএনপিতে সিরাজ-হাবিব দ্বন্দ্বের পুরনো সংকট নতুন করে জেগে উঠেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে দায়ী করেছেন। ১৯৯৪ সালের ২৩ এপ্রিল ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন হাবিব। তখন তিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। শেখ হাসিনার পথসভাটিও পরিচালনা করেছিলেন তিনি। তবে দলের মনোনয়ন না পেয়ে পরবর্তী সময়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার হাবিব সমকালকে বলেন, 'সেদিনের ঘটনার জন্য সিরাজ সরদার সরাসরি জড়িত ছিল। তার ইন্ধনেই ওই ট্রেনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, বোমা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আমি নিজে ওই দিন শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিলাম এবং ঈশ্বরদীর পথসভা পরিচালনা করেছিলাম। ঈশ্বরদীর ওই ঘটনার জন্য যদি কারও ফাঁসি হওয়ার থাকে, তবে সিরাজ সরদারের ফাঁসি হওয়া উচিত। অথচ সিরাজ সরদার বা তার অনুসারীদের কেউই এ মামলার আসামি তালিকাতেও নেই।'

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, হাবিব মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে এসে ঈশ্বরদী বিএনপিকে ধ্বংস করেছেন। ১৯৯৪ সালের সেই ঘটনার দিন হাবিব ছিলেন আওয়ামী লীগের লোক। এখন এত বছর পর তিনি পাগলের প্রলাপ বকছেন। ঈশ্বরদী বিএনপির জন্য তার এসব কথা মায়াকান্না ছাড়া কিছুই নয়। নেতৃত্ব সংকটের এ পর্যায়ে হাবিব-সিরাজের বলয় থেকে বের হয়ে নতুনভাবে বিএনপিকে পরিচালনা করার কথাও ভাবছেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতাকর্মীরা সাজা পাওয়ায় এসব চিন্তা করছেন তারা। পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম ফজলুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, রাজনৈতিকভাবে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি দলের সঙ্গে এখনও যারা আছেন, তাদের সংগঠিত করা হবে। এভাবেই ঈশ্বরদী পৌর বিএনপি নতুন করে পরিচালিত হবে।