ভুয়া মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে ফাঁসলেন নিজেই

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন বিবি খালেদা নামের এক নারী। আদালতে ভুয়া মেডিকেল সনদ জমা দিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি দিয়ে সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ আনেন তিনি। আদালতের নির্দেশে মামলা তদন্ত করে মিরসরাই থানার এসআই আমিরুল মুজাহিদ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা দেন। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবির মুখে বিষয়টি অধিকতর অনুসন্ধান করতে গিয়ে জালিয়াতির ছক খুঁজে পান আদালত। এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে এবার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

আদালত সূত্র জানায়, মিরসরাই উপজেলার উত্তর ওয়াহেদপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম আদালতে মামলা করেন বিবি খালেদা। মামলায় আসামি করা হয় মিরসরাই পূর্ব মসজিদিয়া এলাকার মাইনুল ইসলাম রনি, মনোয়ারা বেগম, পলি আক্তার ও আবুল কালামকে। খালেদা অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে তার অন্তঃসত্ত্বা বোন বিবি ফাতেমার পেটে লাথি দিয়ে সন্তান নষ্ট করেছে আসামিরা। আদালতের নির্দেশে গুরুতর এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান মিরসরাই থানার এসআই আমিরুল মুজাহিদ। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি আদালতে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ঘটনার পূর্বাপর বিশ্নেষণ এবং ডাক্তারি সনদ পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে নেওয়া মেডিকেল এবং জখমি সনদও আদালতে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবী রনজিত কুমার শীল বাদীর দাখিল করা মেডিকেল সনদ নিয়ে আপত্তি তুললে বিষয়টি যাচাই করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ জুন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম আদালতে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তিনি জানান, বাদীর জমা দেওয়া সনদটি চমেক থেকে প্রদান করা হয়নি। সনদে ডা. খাদিজা আক্তার নামে যে চিকিৎসকের স্বাক্ষর রয়েছে তিনিও আর এই হাসপাতালে কর্মরত নন। সনদে যে উল্লেখিত তারিখের দুই সপ্তাহ আগেই ডা. খাদিজা এই হাসপাতাল থেকে বদলি হয়ে গেছেন। একই সঙ্গে সনদে উল্লেখিত স্মারক নম্বর ও রোগীকে দেওয়া ছাড়পত্রও ভুয়া বলে আদালতকে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আসামিপক্ষের আইনজীবী রনজিত জানান, হাসপাতালের প্রতিবেদন পেয়ে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন আদালত। আদালতে এসে এসআই আমিরুল দাবি করেন, ওই দুটি প্রতিবেদন তিনি বাদীর কাছ থেকে নিয়েছেন। কিন্তু বাদী দাবি করেছেন, তদন্ত কর্মকর্তাই ওই দুটি সনদ তাকে এনে দিয়েছেন। তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে বলে দাবি অ্যাডভোকেট রনজিতের। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আমিরুল মুজাহিদ বলেন, তিনি বাদীর কাছ থেকে সনদ নিয়েছিলেন। হাসপাতাল থেকে সনদ যাচাই না করাটা তার ভুল হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, কোনো মামলায় তদন্তের স্বার্থে হাসপাতাল থেকে মেডিকেল ও জখমি সনদ সংগ্রহ করবেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই। অন্য কেউ সনদ গ্রহণ করার নিয়ম নেই।