ইউএনওর এত ক্ষমতা!

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সংবাদ সংগ্রহের আগে স্থানীয় প্রেস ক্লাবের নেতা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নেওয়া লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম। সম্প্রতি উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ইউএনও এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

ভিডিওতে কামারখন্দ প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়াকে উদ্দেশ করে ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'এখানে (কামারখন্দ) বাইরের সাংবাদিক একদিনে এসে বুঝবে? যে কোনো নেগেটিভ নিউজ করলে আমার সাথে কথা বলে তারপর করবে। বাইরের সাংবাদিক যেন আমার কাছে কম আসে। আমার কথা হচ্ছে, প্রোপার চ্যানেলের মাধ্যমে আসবে। বাইরের সাংবাদিক আসলে নক করে আসবে।' তিনি আরও বলেন, 'সিরাজগঞ্জ জেলার সাংবাদিকদের কামারখন্দ উপজেলায় প্রবেশ করতে বা সংবাদ সংগ্রহ করতে স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি এবং আমার (ইউএনও) কনসার্ন নিতে হবে।'

ইউএনওর এমন বক্তব্যে সিরাজগঞ্জ জেলায়

কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি সরকারিভাবে গম-ধান কেনা, কর্মসৃজন প্রকল্প, টিআর-কাবিখা প্রকল্প, জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পসহ বিভিন্ন স্কুলে দপ্তরি-কাম প্রহরী নিয়োগে দুর্নীতি করেছেন ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম। এসব খবর যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্য এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রবিন বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কোনো নেগেটিভ নিউজ হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে অনেক সময় জবাবদিহি করতে হয়। তাই কামারখন্দের যে কোনো নেতিবাচক সংবাদের আগে উপজেলা প্রেস ক্লাবের নেতাদের সঙ্গে আলোচনাসহ আমার মতামত নিলে ভালো হয়। তিনি কাউকে আহত করার জন্য এমন মন্তব্য করেননি বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মাদ বলেন, 'বিষয়টি শুনেছি। তবে অডিওটি শুনতে পারিনি। অডিওটি শোনার পর কামারখন্দের ইউএনওর সঙ্গে কথা বলব। তারপর আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারব। এর আগে কিছু বলতে পারছি না।'