পুলিশ নিয়োগে স্বচ্ছতা ফোনে আড়িপাতা ফাঁদে দুই পুলিশ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

বগুড়া ব্যুরো

বগুড়ায় কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যদের ফোনেও আড়িপাতা হয়েছিল। সেই ফাঁদে আটকা পড়েছেন দুই কর্মকর্তা। নিয়োগ প্রার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুই এএসআইকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার) করা হয়েছে। তারা হলেন- জেলা পুলিশের রিজার্ভ অফিসের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফারুক হোসেন ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শওকত আলম। তাদের চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বগুড়া পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে বগুড়ায় ব্যাপক পোস্টারিং ও মাইকিং করা হয়। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের একটি টিমও কয়েকদিন ধরে বগুড়ায় অবস্থান করে নজরদারি চালাচ্ছিল। এ নজরদারিতে রাখা হয়েছিল জেলার পুলিশ সদস্যদেরও। ঘুষ লেনদেন কিংবা এ ধরনের যোগাযোগ হয় কি-না, তা জানতে পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোনে আড়িপাতা হয়। তাতে অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি ধরা পড়ে। এর পরই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তাদের প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, কী ধরনের অভিযোগে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে, আদেশে তা উল্লেখ নেই। তবে কনস্টেবল নিয়োগে অনৈতিক যোগাযোগের কারণেই প্রত্যাহার হতে পারে। বগুড়া পুলিশের সূত্র জানায়, এ বছর সাধারণ কোটায় ৫৪ জন ও বিশেষ কোটায় ১৮৫ জন কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। বুধবার প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার লিখিত

পরীক্ষা হয়। এ নিয়োগ পরীক্ষায় যে কোনো অনিয়ম ঠেকাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা ১০০ টাকায় কনস্টেবল নিয়োগের ঘোষণা দেন। এ ব্যাপারে থানায় থানায় মাইকিং, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার চালানো হয়েছে।