লন্ডনে তথ্যমন্ত্রী তারেকের কারণেই বিএনপির রাজনীতি তলানিতে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি এবং তাদের রাজনীতি ধ্বংস করার জন্য আওয়ামী লীগকে কিছুই করতে হচ্ছে না। বরং আদালতে দণ্ডিত লন্ডনে বসবাসরত তারেক রহমানের কারণেই বিএনপির রাজনীতি তলানিতে। বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে

প্রার্থী দিয়েও বিএনপি নির্বাচন করেনি। এর কারণ হলো আওয়ামী লীগের উন্নয়ন, সুশাসন, অর্থনৈতিক বিপ্লব, গরিব জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন। তারেক রহমান লন্ডনে বসে স্কাইপের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতি করেন, বক্তব্য দেন। অবৈধভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার মনোনয়নবাণিজ্য করা যার মতলব, সে কী করে দলকে ক্ষমতায় আনবে?

হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ এখন আর বিশ্বে তলাবিহীন গরিব দেশ হিসেবে শিরোনাম হয় না। শিরোনাম হয় বিশ্বে যখন বাংলাদেশের নারীরা ফুটবলে চমক লাগিয়ে দেয়, ক্রিকেট বিশ্বকাপে যখন অঘটন ঘটিয়ে ফেলে, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ৭ এর ঘর অতিক্রম করে। আর এসব কেবল তখনই হয়, যখন শেখ হাসিনা দেশের নেতৃত্ব দেন।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম-সম্পাদক নঈমুদ্দিন রিয়াজ প্রমুখ। ইউরোপে এক সপ্তাহের সরকারি সফরে মন্ত্রী মঙ্গলবার লন্ডন পৌঁছান।

'বাংলাদেশের গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীনতা ভোগ করে' : বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। লন্ডনে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান চার ধাপ নেমে ১৫০ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সূচকগুলো কোন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে করা হয় তিনি জানেন না। যুক্তরাজ্যে ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ হয়েছে। তবে বাংলাদেশে ভুল, অসত্য কিংবা ফেব্রিকেটেড সংবাদ পরিবেশনের কারণে কোনো পত্রিকা বন্ধ হয় না। এ ছাড়া ভুল বা অসত্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য যুক্তরাজ্যে জরিমানা গুনতে হয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে। যেটা বাংলাদেশে করা হয় না।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীনতা ভোগ করে। বাংলাদেশে গত ১০ বছরে গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। ২০০৮ সালে দৈনিক সংবাদপত্রের সংখ্যা ছিল সাড়ে ৭শ', এখন এই সংখ্যা প্রায় ১৩শ'। টেলিভিশনের সংখ্যা অন-এয়ারে আছে ৩৪টি। লাইসেন্স দেওয়া আছে ৪০টির। তবে তিনি বলেন, গণমাধ্যম কিছু বণিকগোষ্ঠীর হাতে চলে গেছে। ফলে তারা চাইলেও সেই বণিকগোষ্ঠীর সমালোচনা করতে পারে না অনেক ক্ষেত্রে। সেই বণিকগোষ্ঠী অনেক সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে।