স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের কেউ আ'লীগের সদস্য হতে পারবে না ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক ও যুদ্ধাপরাধী পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। এ দল মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, স্বাধীনতার আদর্শ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রজন্মের চেতনার পক্ষে। সুতরাং আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী শক্তির সঙ্গে কোনো অবস্থায়ই আপস করবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

আগামী ২১ জুলাই শুরু হওয়া আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে যুদ্ধাপরাধী কিংবা জামায়াত-সংশ্নিষ্ট পরিবারের কারও সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত

আছে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুদ্ধাপরাধীর পরিবার হলে সদস্য করা হবে না। তারা যে সদস্যপদ নিতে পারবে না, সেটা দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ অটল। যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দেওয়া কিংবা দলের সদস্য করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এখানে আপসের প্রশ্নই ওঠে না।

বিএনপি-জামায়াত পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগে আসতে চাইলে দলের অবস্থান কি হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে আওয়ামী লীগের আদর্শের সঙ্গে অন্য কোনো দলের সঙ্গে পার্থক্য বিশেষ করে সাম্প্রদায়িক বিষয়টাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে যারা আছে তারা জামায়াত কিংবা বিএনপি হোক, একইভাবে দেখা হবে।

'পরিবারে কেউ যুদ্ধাপরাধী কিংবা জামায়াত থাকলেও সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে না'- গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তার এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'না, এ কথা আমি বলতে পারি না। আমি এটা বলিনি।'

গত দশ বছরে বিএনপি-জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারীদের দলের সদস্য পদ নবায়ন হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছর যাদের নবায়ন করা হয়েছে, সেই তালিকায় স্বাধীনতাবিরোধী কিংবা সাম্প্রদায়িক কারও অনুপ্রবেশের কোনো প্রমাণও নেই।

বরগুনায় রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার আসামিদের সরকার দলীয় সংশ্নিষ্টতা-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, দলীয় কারও সংশ্নিষ্টতা প্রমাণ হলে অবশ্যই তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগে দলের লোকরা ছাড় পাননি।

রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ারে মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নয়ন বন্ডের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার বক্তব্যের সঙ্গে তিনি (কাদের) একমত।

পাবনায় শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে হামলার ঘটনায় বিচারের রায় প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, রায় দিয়েছেন আদালত। রায় প্রত্যাহার করবেন কি না- সেটাও আদালতই জানেন। এই রায়ে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। যখন বিএনপির লোকজন সাজাপ্রাপ্ত হয়, তখন তারা সব বিচারকেই প্রহসনের বিচার বলেন। এটা তাদের চিরাচরিত অভ্যাস।