গুণে অনন্য বাবলা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

লেখা ও ছবি :মোকারম হোসেন

বাবলা গাছকে আপাতদৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও গাছটি চমৎকার ঔষধি গুণসম্পন্ন। রত্নাকর নিঘণ্টুর তথ্যমতে, এ গাছের ফল রুক্ষ, বিশদ, স্তম্ভন, কষায়, মধুর, লেখন ও কফপিত্তনাশক। রাজ নিঘণ্টুর মতে, বাবলা কষায় রস, কফ ও কাশনাশক, অতিসার, আমরক্ত, পিত্তরোগ ও দাহনাশক। ক্রনিক অতিসারে কচি বাবলা পাতা মিহি করে কেটে শীতল পানিসহ পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিফিলিস হলে পাতার চূর্ণ উপদংশের ক্ষতে অবচূর্ণন করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। গাছের আঠা ডায়াবেটিস রোগে কাজে লাগে। বাংলাদেশ জাতীয় আয়ুর্বেদিক ফর্মুলারি ১৯৯২-এ বাবলা কেবল একটি 'মেহবজ্র রসায়ন বা

মেহরি'তে বাবলা ছাল ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে। তবে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনানি ফর্মুলারি ১৯৯৩-এ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তৈরি এবং বিভিন্ন রোগ লক্ষণে ব্যবহূত ৪০টি ওষুধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বাবলা ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে। তা ছাড়া এ গাছের বিভিন্ন অংশ একাধিক নামে ওষুধ তৈরিতে ব্যবহূত হয়। যেমন- আকাকিয়া হলো বাবলা ছালের জমানো রস, কীকর হলো বাবলা থেকে তৈরি গাম, পোস্ত মুগে হলো বাবলা গাছের ছাল, ফলী বাবুল হলো বাবলা গাছের ফল, জেসান্দা পোস্ত কীকর হলো বাবলা ছালের ক্বাথ, একইভাবে বর্গে বাবুল- বাবলার পাতা ও গুলে বাবুল- বাবলার ফুল হিসেবে পরিচিত। উল্লিখিত সবক'টি উপাদানই ওষুধ তৈরির লোকজ ব্যবহার থেকে শুরু করে ইউনানি প্রতিষ্ঠানগুলোয় বহুল ব্যবহূত। গবেষকরা বাবলা ব্যবহারের ৪০টি ক্ষেত্র নির্দেশ করলেও লোকজ ব্যবহারে মাত্র সীমিত কয়েকটি রোগে ব্যবহূত হতে দেখা যায়।

এ গাছ দেশের চরাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে দেখা যায়। দ্রুত বর্ধনশীল বৃক্ষ, ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা যৌগিক, পত্রখণ্ডক ক্ষুদ্র। ফুল গাঢ়-হলুদ বর্ণের। ফল শিমের মতো। ফুল ও ফলের মৌসুম :জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ। কাঠ শক্ত। বীজ থেকে চারা। জন্মস্থান ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মিসর, আরব, উষ্ণমণ্ডলীয় আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়া। গাছটি বিপন্ন নয় (ষপ)। বৈজ্ঞানিক নাম অপধপরধ হরষড়ঃরপধ।