বিশ্বের বৃহত্তম পাখির ভাস্কর্য

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

ঋষি বাল্মীকির মহাকাব্য রামায়ণে উল্লেখ আছে জটায়ু পাখির কথা। ঈগল জাতীয় পাখি জটায়ু দেখতে পায়, রামের স্ত্রী সীতাকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে লংকার রাক্ষসরাজ রাবণ। রামভক্ত পাখিটি সীতাকে উদ্ধার করতে রাবণের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে রাক্ষসরাজের কাছে হার মানতে হয় জটায়ুকে। রাবণের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয় জটায়ু, বাম ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে পাখিটি ভূপাতিত হয়।

সেই জটায়ুর প্রতিমূর্তি গড়ে তোলা

হয়েছে ভারতের কেরালায়। পর্যটন দপ্তরের সহায়তায় ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন চলচ্চিত্রকার ও ভাস্কর্যশিল্পী রাজীব আঞ্ছল। এটি বিশ্বের বৃহত্তম পাখির ভাস্কর্য।

রাজীব আঞ্ছল দশ বছরের প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালের শেষ দিকে কেরালার চাডায়ামঙ্গলমে গড়ে তোলেন জটায়ুর বিশাল ভাস্কর্য। এটি দৈর্ঘ্যে ২০০ ফুট, প্রস্থে ১৫০ ফুট এবং লম্বায় ৭০ ফুট। খুবই নিখুঁতভাবে ভাস্কর্যটির কাজ করা হয়েছে। এমনকি পাখিটির প্রতিটি পালক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অতি সূক্ষ্ণভাবে। ভাস্কর্যটি সুরক্ষার দায়িত্বে আছে জটায়ু আর্থ সেন্টার।

৬৫ একর জায়গায় বিস্তৃত এ ভাস্কর্য ঘিরে গড়ে উঠেছে জটায়ু পার্ক, যা কেরালার পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভাস্কর্যটি এমনভাবে বানানো যে, পাখির শরীর আর্থ সেন্টারের ছাদ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। ভাস্কর্য ছাড়াও এ সেন্টারে নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। রক ক্লাইম্বিং, রাইফেল শুটিং, পেইন্টবল, ডিজিটাল মিউজিয়াম, আয়ুর্বেদিক কেভ রিসোর্টসহ নানা পসরা সাজানো হয়েছে জটায়ু আর্থ সেন্টারে। প্রতিদিনই সেখানে দেখা যাচ্ছে পর্যটকের ভিড়। পার্কটি তৈরিতে ১০০ কোটি রুপি খরচ করেছে কেরালা রাজ্য সরকার। সূত্র : মাইমডার্নমেট ডটকম।