শাহবাগ থানা থেকে অস্ত্র-গুলি চুরি

দুই মাস তদন্তের পরও অন্ধকারে পুলিশ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

ইন্দ্রজিৎ সরকার

রাজধানীর শাহবাগ থানা থেকে অস্ত্র-গুলি চুরির পর দুই মাসেও তা উদ্ধার করা যায়নি। থানার ভেতর থেকে এমন দুঃসাহসিক চুরির নেপথ্য কারণ সম্পর্কে এখনও অন্ধকারে রয়েছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন এক যুবককে শনাক্ত করা হয়। তবে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি তাকে।

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান সমকালকে বলেন, 'সন্দেহভাজন যুবকের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তাকে ধরিয়ে দিতে সবার সহযোগিতা চেয়ে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। আর তাকে ধরতে পারলেই বেরিয়ে আসবে চুরির কারণ।'

গত ৫ মে দুপুরে দায়িত্ব পালন শেষে থানা ভবনের দোতলায় বিশ্রামকক্ষে ফেরেন এএসআই হিমাংশু সাহা। বিশ্রামের এক পর্যায়ে তিনি দেখেন, তার পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন নেই। অনেক খুঁজেও সেগুলোর সন্ধান মেলেনি।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় সবার আগে খবর প্রকাশ করে সমকাল। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা কর্তব্যে অবহেলা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে তাকে ক্লোজ করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্নিষ্টরা জানান, শাহবাগ থানার বিশ্রামকক্ষের ভেতরে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। এ কারণে চুরির সময়ের কোনো ছবি পাওয়া যায়নি। তবে বাইরের একটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, শাহবাগ থানার সাব-কন্ট্রোল রুমের পাশের রাস্তা দিয়ে সন্দেহভাজন এক যুবক এসে সোজা দোতলায় উঠে যায়। ঢোকা ও বের হওয়ার সময় তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে অথবা কথা বলার ভান করতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে-ই অস্ত্র-গুলি চুরি করেছে। সন্দেহভাজন এ যুবক কোনো উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তদন্ত সূত্র জানায়, সেদিন একটি সড়ক দুর্ঘটনার সূত্র ধরে একটি জাতীয় দৈনিকের এক সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন

বহিরাগত থানায় ঢোকেন। ওই সাংবাদিকের সঙ্গে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে কথা বলতেও দেখা গেছে। কিন্তু পরে সাংবাদিক দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না।

এদিকে চুরির সঙ্গে শাহবাগ থানার কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্নিষ্টদের ধারণা, ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে এএসআই হিমাংশুকে ফাঁসাতে তার সহকর্মীদের কেউ সন্দেহভাজন ওই যুবককে ডেকে অস্ত্র-গুলি তার হাতে তুলে দেন। নইলে ঠিকঠাক সময়ে ওই যুবকের উপস্থিত হওয়াটা রহস্যজনক। সে থানায় বেশিক্ষণ অবস্থানও করেনি। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে বিশ্রামকক্ষে থাকা কয়েক পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মনজুর হোসেন জানান, চুরিতে সন্দেহভাজন যুবকের ছবি যেহেতু পাওয়া গেছে, তাকে ধরা অসম্ভব হবে না। তবে কিছুটা সময় লাগছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবিসহ অন্যান্য সংস্থাও বিষয়টির ছায়া তদন্ত করছে।

সম্প্রতি সন্দেহভাজন ওই যুবকের ছবি ডিএমপির নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করে পুলিশ। তাতে দেখা যায়, সাদা-কালো চেক শার্ট ও ধূসর রঙের প্যান্ট পরা এক যুবক থানা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তার কাঁধে ঝুলছে কালো ব্যাগ। হালকা দাড়ি আছে মুখে।