রাজশাহীতে কলেজ ছাত্রের হাত বিচ্ছিন্ন

বাসচালক ও ট্রাকের হেলপার গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীতে বাস ও ট্রাকের চাপায় কলেজছাত্র ফিরোজ সরদারের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় বাসচালক ও ট্রাকের হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুঠিয়া বাজার থেকে বাসচালক ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। আর ট্রাকের হেলপার রায়হান সরদারকে আটক করা হয় বুধবার রাতে। এ সময় দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটিও জব্দ করে পুলিশ। ট্রাকচালক ওয়াহিদুজ্জামান এখনও পলাতক রয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার হুমায়ুন কবীর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে পুঠিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ পরিবহনের চালক ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। সে পুঠিয়া উপজেলার গোপালহাটি গ্রামের আতাহার আলীর ছেলে। এর আগে ফিরোজকে চাপা দেওয়া ট্রাকটি শনাক্ত করে বুধবার রাত ১১টার দিকে জব্দ করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায়

নগরীর উপভদ্রা এলাকার বক্কার অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ থেকে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৮৭৯৬) জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রাকচালকের সহকারী রায়হান সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। রায়হান চারঘাট উপজেলার পাসুন্দিয়া গ্রামের মাসুদ রানার ছেলে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের চালক ছিলেন চারঘাট উপজেলার পাটিয়াকান্দি গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ট্রাকচালকের সহকারী রায়হান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, আদা নিয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে ফিরোজকে বহনকারী বাসের সঙ্গে তাদের ট্রাকটির ধাক্কা লাগে। পরের দিন ঢাকায় আদা পৌঁছে দিয়ে রাজশাহীর ছন্দা পেট্রোল পাম্পে ট্রাকটি পার্ক করে চালক পালিয়ে যায়। পরে গত ৩ জুলাই মেরামতের জন্য রায়হান ট্রাকটি বক্কার অটোমোবাইল ওয়ার্কশপে নিয়ে যায়।

গত ২৮ জুন সন্ধ্যায় কাটাখালী পৌরসভার সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় মোহাম্মদ পরিবহনের যাত্রী ও রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ফিরোজ সরদারের ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।