খুলনায় দাম নিয়ে খুশি দু'পক্ষই

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

খুলনা ব্যুরো

খুলনার কোরবানির পশুর হাটগুলো শেষ সময়ে এসে জমে উঠছে। হাট শুরুর দিকে দাম চড়া থাকায় গরু-ছাগল কম বিক্রি হয়েছে। গতকাল শনিবার পুরোদমে জমে উঠেছে হাট। দাম যেমন কমছে, বিক্রিও বাড়ছে। পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই খুশি।

মহানগরীর জোড়াগেট কোরবানির পশুর হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাটে এবার ভারতীয় গরু আসেনি। এজন্য দেশি গরুর দাম চড়া। দামও বেড়ে গেছে প্রায় দেড়গুণের কাছাকাছি। তারপরও ক্রেতারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন দাম কমাতে। দাম বেশি হলেও গত বছরের তুলনায় এবার হাটে গরুর আমদানি ও বিক্রি বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, জোড়াগেট হাটে সবচেয়ে বড় গরু এনেছেন দীঘলিয়া উপজেলার লাখোহাটি গ্রামের নুর ইসলাম চৌধুরী। সাদা রঙের বিশাল আকারের গরুর দাম হেঁকেছেন ১১ লাখ টাকা। নুর ইসলামের দাবি, গরুটির ওজন ২৮ মণ। এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা দাম উঠেছে। এটিই এখন পর্যন্ত হাটের সবচেয়ে বড় গরু।

রূপসা উপজেলা থেকে অস্ট্রেলিয়ান জাতের একটি ছাগল নিয়ে এসেছেন শাহজাহান মিয়া। তিনি ছাগলের দাম চেয়েছেন ৭০ হাজার টাকা। এটিই হাটের সবচেয়ে বড় ছাগল।

হাটের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা গেছে, গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই হাজার ২১০টি গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছে। গত বছর একই সময়ে দুই হাজার ১৫২টি পশু বিক্রি হয়েছিল।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে গরু নিয়ে আসা সুলতান খান জানান, সারাবছর লালন-পালন করে গরুর যে দাম পাওয়া উচিত, তারা সে দাম পাচ্ছেন না। বড় ও মাঝারি আকারের গরুর দাম অনেক বেশি। কিন্তু ক্রেতা কম থাকায় তারা কম লাভে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দীঘলিয়া উপজেলার ইব্রাহিম হোসেন বলেন, হাটে তিনি আটটি গরু এনেছেন। এর মধ্যে তিনটি বিক্রি হয়েছে লাভে, একটি লোকসানে। হঠাৎ করে গরুর দাম পড়ে যাচ্ছে। এজন্য বাকি চারটি বিক্রি করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

কেসিসির হাট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বিশ্বাস বলেন, শেষ সময় হাটে প্রচুর গরু আসছে। এজন্য দাম কিছুটা সহনীয়। গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে। শেষদিনে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।