ঈদের ছুটির প্রভাব

চট্টগ্রাম বন্দরে জট লাগা জাহাজের 'সেঞ্চুরি'

খালাসের অপেক্ষায় সাড়ে ৩শ' রফতানি পণ্যের গাড়ি

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

টানা বৃষ্টি, সড়কে ভারী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও পণ্য ডেলিভারির হার কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের টেনশন বাড়াচ্ছে ঈদের ছুটি। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে জট লাগা জাহাজের 'সেঞ্চুরি' হয়েছে। বন্দর সীমায় থাকা ১০০টি জাহাজের মধ্যে পণ্য খালাসের কাজ চলছে মাত্র ৪০টিতে। আবার কনটেইনার নিয়ে আসা ২৬টি জাহাজের মধ্যে খালাস কাজ চলছে মাত্র ১১টিতে। ঈদকে ঘিরে পণ্য খালাসের হার কমে যাওয়ায় জেটিতেও বাড়ছে কনটেইনারের সংখ্যা। গতকাল পর্যন্ত ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ৩৬ হাজার ৩৯টি কনটেইনার জমে ছিল বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে। আবার ভারী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় রফতানিপণ্যের জট তৈরি হয়েছে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে। রফতানি পণ্য নিয়ে এসব ডিপোতে অপেক্ষায় থাকা কার্ভাডভ্যান, ট্রাক ও লরির সংখ্যা গতকালই ছাড়িয়েছে সাড়ে তিনশর ঘর।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, 'বৈরী আবহাওয়া ও ঈদের ছুটি টেনশন বাড়াচ্ছে আমাদের। অথচ জট কমাতে এবারও আগেভাগে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলাম আমরা। ছুটির মধ্যে ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম চেম্বারের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আবার ছুটির ফাঁকে ডেলিভারি অর্ডার পেতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য শিপিং এজেন্টকেও আগেভাগে চিঠি দিয়ে রেখেছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারপরও পণ্য ডেলিভারির হার কমছে ক্রমশ। ইয়ার্ডে বাড়ছে কনটেইনারের সংখ্যাও।'

আজ থেকে ঈদের ছুটি হলেও চট্টগ্রাম বন্দরে এর প্রভাব পড়তে থাকে বৃহস্পতিবার থেকেই। গত বুধবার বন্দর থেকে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের (টিইইউএস) ৪ হাজার ৯৭৬টি কনটেইনার খালাস নেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার খালাসের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১২৪। আবার শুক্রবার এটি আরও কমে হয় মাত্র ২ হাজার ৮১৫। গতকাল শনিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পণ্য ডেলিভারি হয়েছে মাত্র এক হাজার। পণ্য খালাসের হার এভাবে কমতে থাকলে বাড়তে থাকবে ইয়ার্ডে কনটেইনার জমার হার। গত বৃহস্পতিবার বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ৩৩ হাজার ২২১টি কনটেইনার থাকলেও গতকাল তা বেড়ে হয় ৩৬ হাজার ৩৯।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চ্যানেলে বাড়ছে জাহাজের সংখ্যা। গতকাল বন্দরের সীমায় মোট জাহাজ ছিল ১০০। এর মধ্যে মূল জেটিতে ১৬টি ও এর বাইরে ছিল ৮৪টি জাহাজ। জেটিতে থাকা ১৬টি জাহাজের মধ্যে ১১টি হচ্ছে কনটেইনার জাহাজ। জেটির বাইরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ১৫টি কনটেইনার জাহাজ। জাহাজের এমন 'সেঞ্চুরি' হওয়ার পরও পাইপলাইনে আছে আরও ৪০টি জাহাজ। আজ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে এসব জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সূচি নির্ধারিত আছে। ঈদের ছুটি ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব দীর্ঘায়িত হলে এসব জাহাজকেও মোকাবেলা করতে হবে জটের ক্ষতি।

শুধু বন্দর কিংবা বহির্নোঙ্গর নয়; বেসরকারি ১৯টি ডিপোতেও পড়তে শুরু করেছে ঈদের প্রভাব। এসব ডিপো ৩৭ ধরনের  আমদানিপণ্য ও প্রায় শতভাগ রফতানিপণ্য খালাস করার কাজ সম্পন্ন করে। ঈদের আগে মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান ও বড় লরির মতো যান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকার প্রভাব বেশি পড়ে ডিপোগুলোতে। যথাসময়ে কনটেইনার ডেলিভারি নিশ্চিত করতে আমদানিকারকদের অনেকে পণ্য আগেভাগে পাঠিয়ে দেয় ডিপোতে। এজন্য রফতানিপণ্যের জট তৈরি হয় এখানে। গতকাল রোববারও ১৯টি ডিপোতে প্রায় সাড়ে তিনশ' রফতানিপণ্য বোঝাই গাড়ি খালাসের অপেক্ষায় ছিল।

বিষয়টি স্বীকার করে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার সচিব রুহুল আমির সিকদার বলেন, 'আমদানিপণ্য নিয়ে বসে থাকলেও ডেলিভারি নিতে আসছেন না ব্যবসায়ীরা। আবার রফতানি পণ্য যথাসময়ে পৌঁছানো নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা থাকায় তারা আগেভাগে পাঠিয়ে দিচ্ছে রফতানিপণ্য। এজন্য এখন সাড়ে তিনশ' গাড়ির জট লেগেছে ডিপোগুলোর মুখে। কনটেইনারের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ধারণক্ষমতা। সব মিলিয়ে ডিপোগুলোতে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ৬৫ হাজার কনটেইনার রাখতে পারি আমরা। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত কনটেইনারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ২২৮।'