ঈদের ছুটিতে জেটিতে কনটেইনার জমেছে ৪২ হাজার চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫ লাখ টন পণ্যের জট

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

ঈদের ছুটিতে ২৫ লাখ টন পণ্যের জট তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ টন পণ্য আছে বন্দর জেটিতেই। অবশিষ্ট পণ্য আছে মূল জেটি ও বহির্নোঙরে থাকা ১৩৬টি জাহাজে। চাল, চিনি, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে এসব জাহাজ ঈদের আগেই এসেছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। নিয়মানুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে ছুটি ছিল কেবল ঈদের দিন। কিন্তু ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাসের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় কনটেইনারের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে চট্টগ্রাম বন্দরে। এক সপ্তাহ আগে বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে ২০ ফুট দীর্ঘ (টিইইউএস) ৩৩ হাজার ২২১টি কনটেইনার থাকলেও গতকাল তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ হাজার ২৪০।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, 'পণ্য খালাসের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকলেও ব্যবসায়ীরা আসেননি। বন্দরে খালাস কার্যক্রম নিয়মানুযায়ী কেবল ঈদের দিন বন্ধ ছিল। অথচ পণ্য খালাসের পরিমাণ কমতে থাকে ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই। বন্দর ইয়ার্ডে ২০ ফুট দীর্ঘ ৪৯ হাজার ১৮ কনটেইনার রাখার ধারণক্ষমতা আছে আমাদের। এটি এখনও অতিক্রম করেনি পণ্যবাহী কনটেইনার। বুধবার পর্যন্ত ইয়ার্ডে কনটেইনার ছিল ৪২ হাজার ২৪০।'

চলতি সপ্তাহের রোববার থেকে ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হলেও চট্টগ্রাম বন্দরে

এর প্রভাব পড়তে থাকে গত বুধবার থেকেই। গত মঙ্গলবার বন্দর থেকে ২০ ফুট দীর্ঘ ৪ হাজার ৯৭৬টি কনটেইনার খালাস নেয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বুধবার খালাসের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১২৪। আবার বৃহস্পতিবার এটি আরও কমে হয় মাত্র ২ হাজার ৮১৫টি। শুক্রবার ও শনিবার পণ্য খালাস হয় যথাক্রমে এক হাজার ১০ ও এক হাজার ১২৮ কনটেইনার। ঈদের আগের দিন রোববার খালাস হয় মাত্র ৫৫৬ কনটেইনার। ঈদের দিন পণ্য খালাস বন্ধ থাকলেও পর দিন খালাস হয় এক হাজার ১৫২ কনটেইনার। পণ্য খালাসের হার এভাবে কমতে থাকায় ২০ ফুট দীর্ঘ ৩৩ হাজার ২২১টি কনটেইনার এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে হয় ৪২ হাজার ২৪০।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চ্যানেলে বাড়ছে জাহাজের সংখ্যা। গতকাল বন্দরের সীমায় মোট জাহাজ ছিল ১৩৬। এর মধ্যে মূল জেটিতে ১৬টি ও এর বাইরে ছিল ১২০টি জাহাজ। জেটিতে থাকা ১৬টি জাহাজের মধ্যে ১১টি হচ্ছে কনটেইনার জাহাজ। আর জেটির বাইরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় আছে ১৮টি কনটেইনার জাহাজ। পাইপলাইনে আছে আরও ৪৬টি জাহাজ। আজ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে এসব জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সূচি নির্ধারিত আছে। ঈদের ছুটি ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব দীর্ঘায়িত হলে এসব জাহাজকেও মোকাবেলা করতে হবে জটের ক্ষতি।

বন্দর সীমায় থাকা ১৩৬টি জাহাজরে মধ্যে কনটেইনার জাহাজ আছে ২৯টি। গড়ে ২ হাজার করে কনটেইনার ধরলেও এসব জাহাজে মোট কনটেইনার হয় ৫৮ হাজার। বন্দর জেটিতে থাকা ৪২ হাজার কনটেইনারের মধ্যে পণ্যবাহী আছে ৩৫ হাজার। ২০ ফুট দীর্ঘ এসব কনটেইনারের প্রতিটিতে গড়ে ১২ টন করে পণ্য থাকে। এ হিসাবে জেটি ও জাহাজে থাকা ৯৩ হাজার কনটেইনারে পণ্য আছে ১১ লাখ টনেরও বেশি। আবার বহির্নোঙরে কাজ চলা ৪৪টি কার্গো জাহাজে গড়ে ৩০ হাজার টন পণ্য আছে বলে জানায় বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন। তাদের হিসাব এসব কার্গো জাহাজে কম করে হলেও ১৩ লাখ ২০ হাজার টন পণ্য আছে। এ হিসাবে চট্টগ্রাম বন্দর সীমায় থাকা মোট পণ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ টন। বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান একেএম শামসুজ্জামান রাসেল বলেন, ঈদের ছুটিতেও বহির্নোঙরে আমরা ১০ থেকে ১২টি জাহাজে বিশেষ ব্যবস্থায় পণ্য খালাসের কাজ করেছি। তবে ঈদের পরে ৪৪টি জাহাজে পণ্য খালাসের কাজ চলছে। এসব জাহাজে কমপক্ষে ১৩ লাখ ২০ হাজার টন পণ্য আছে। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়াডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম বলেন, 'নানা কারণে ঈদের প্রভাব বেশি হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। আমি ঈদের আগে ১০ কনটেইনার রফতানি পণ্য সময়মতো বন্দরে আনতে পারিনি রাস্তায় গরুর হাটে জট থাকার কারণে। পরে আরেকটি জাহাজে এসব পণ্য পাঠালেও সিঙ্গাপুরে এটি মাদার ভ্যাসেল ধরতে পারবে কি-না তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।'