ঈদ শুভেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রী

মানুষের আস্থার মর্যাদা দেব

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

মানুষের আস্থার মর্যাদা দেব

সোমবার গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - পিআইডি

আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রেখে ভোট দিয়ে আরেকবার দেশসেবার সুযোগ দেওয়ায় দেশবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন বলেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। তাদের এই আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা দেব এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই আমার লক্ষ্য।

গত সোমবার ঈদুল আজহার দিন সকালে গণভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে

দেশকে আরও উন্নত করতে দেশের কল্যাণে কাজ করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদ একটা ত্যাগের দৃষ্টান্ত নিয়ে আমাদের সামনে এসেছে। ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ঈদ আমাদের যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করার প্রেরণা দেয়। এই ঈদ যেন মানুষকে মানুষের কল্যাণে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারের জন্য আরও উৎসাহিত করে। দেশ যেন আরও উন্নত হয়। ঈদের দিনে সেটাই কামনা করি।

সরকার শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্ব পরিমণ্ডলে মর্যাদার আসন ধরে রেখে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে। এটা সম্ভব হয়েছে জনগণের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে। সরকার বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ যে মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে, তা ধরে রাখতে চায়। তিনি আরও বলেন, আজ দেশের উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা তা অব্যাহত থাকবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। মানুষ উন্নত ও সুন্দর জীবন পাক- এ লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা চাই মাথা উঁচু করেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

বরাবরের মতো এবারও ঈদের সকালে গণভবনে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গণভবনের মাঠে তৈরি প্যান্ডেলে পৌঁছলে উপস্থিত নেতাকর্মী 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। জবাবে হাত উঁচু করে তাদের শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগস্ট মাস আমাদের জন্য একটা কষ্ট, ব্যথা, বেদনা নিয়ে আসে। যারা স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বেঁচে আছেন, তারাই শুধু বুঝতে পারবেন আমাদের মনের কষ্ট। এই কষ্ট, দুঃখ, ব্যথা, বেদনা সবকিছু বুকে ধারণ করেও জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে উৎসর্গ করেছি নিজেকে বাংলার মানুষের ভাগ্য গড়ে দিতে।

তিনি বলেন, আমি সবকিছু উৎসর্গ করে এদেশের জনগণের ভাগ্য গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতা এদেশের মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারলে আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে। জনগণের সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করার নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ যেন বাংলাদেশকে খাটো করে দেখতে না পারে, এদেশের মানুষ সর্বত্র মর্যাদা পায়- সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সাফল্য অর্জনে দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি নিজের চোখের ছানি অপারেশনসহ নানা প্রসঙ্গ টেনেও সবার দোয়া চান তিনি।

শুভেচ্ছা বিনিময়ের শুরুতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এরপর পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনীতিক দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, কবি-সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, এতিম-দুস্থ, প্রতিবন্ধী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সর্বস্তরের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিচারক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনী প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক, সিনিয়র সচিব এবং সচিব মর্যাদার অন্যান্য বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্যবারের মতো বছরের এই বিশেষ দিনটিতে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষের অনেকেই নিজস্ব অভাব-অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য ধরে তাদের কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা : বাসস জানায়, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। লোটে শেরিং মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করে তাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের জনগণ ও তার পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা, প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। উভয় প্রধানমন্ত্রী দু'দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ কথা জানান।

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় :প্রধানমন্ত্রী দেশের সব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। অন্যান্য উৎসবের মতো প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) ফুল, ফলমূল এবং মিষ্টান্ন পাঠান। সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মশিউর রহমান হুমায়ুন, উপ-প্রেস সচিব শাখাওয়াত মুন, প্রটোকল অফিসার এস এম খুরশীদ-উল-আলম ও সহকারী কর্মকর্তা মোহম্মদ আরিফুজ্জামান নুরনবী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এগুলো পৌঁছে দেন।