ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আনন্দ যাতে অন্যের জন্য বিষাদের কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সোমবার বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এবারের ঈদুল আজহা এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। কোরবানির পর বর্জ্য যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলে মশার উপদ্রব আরও বেড়ে যেতে পারে। খবর বাসস ও বিডিনিউজের।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজ দায়িত্বে কোরবানির

বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ঈদের আনন্দ যাতে অন্যের জন্য বিষাদের কারণ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে নিজেরা সচেতন হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে সমাজের সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

কোরবানির মর্ম উপলব্ধি করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কোরবানি মানুষকে ত্যাগের পাশাপাশি ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেয়। কোরবানির মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে। কোরবানির আনন্দকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনে এর প্রতিফলন ঘটানোর পাশাপাশি নিজের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

এর আগে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। স্ত্রী রাশিদা খানম এবং পরিবারের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, মসিউর রহমানও এসেছিলেন বঙ্গভবনে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পোসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ বেসামরিক-সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতারাও শুভেচ্ছা বিনিময়ে এসেছিলেন।

বঙ্গভবনের দরবার হলে এ অনুষ্ঠানে গরুর মাংস, মুরগির মাংস, পোলাও, খিচুড়ি, দইবড়া, সেমাইসহ কয়েক পদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় অতিথিদের।

জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতির ঈদের নামাজ আদায় :রাষ্ট্রপতি সোমবার সকালে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এই প্রধান জামাতে প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নামাজ আদায় করেন।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান ঈদের জামাত পরিচালনা করেন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ঈদগাহে পৌঁছলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।