জামাল-ফরহাদের পরিবারে আনন্দ রূপ নিল বিষাদে

ডেঙ্গুতে সিআইডি সদস্য ও কলেজছাত্রের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯      

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

কোরবানির জন্য ষাঁড় কিনতে ছোট ভাই রোমেল আহমেদের কাছে টাকা পাঠিয়ে দেন ঢাকায় সিআইডিতে কর্মরত জামাল আহমেদ। সে অনুযায়ী বড় ভাইয়ের পছন্দমতো একটি ষাঁড় কেনেন রোমেল। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের মনিপুরঘাট এলাকায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করার কথা ছিল জামাল আহমেদের। সবকিছুই ঠিক ছিল। ঈদের ছুটিতে আসার আগেই ৮ আগস্ট বিকেলে অফিসে হঠাৎ মাথা ঘুরে চেয়ার থেকে পড়ে যান জামাল। সঙ্গে সঙ্গে তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে রাতেই ফিরে আসেন বাসায়। শুক্রবার সকালে অবস্থা আবারও খারাপ। ভর্তি করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চার দিন চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে ১০ আগস্ট রাতে তাকে পাঠানো হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। ঈদের দিন সোমবার সন্ধ্যায় ডেঙ্গুর কাছে হার মানেন জামাল। চলে যান না ফেরার দেশে।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঈদের আগের দিন রোববার ফরহাদ আহমেদ নামে এক কলেজছাত্র ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ফরহাদ কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি জেলার ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ির গ্রামের ফেরদৌস আহমেদের ছেলে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ দু'জনের মৃত্যুতে তাদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে এ দুই বাড়িতে।

গতকাল সরেজমিন জামাল আহমেদের কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ মনিপুরঘাট এলাকার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় কবরের নিস্তব্ধতা। ছয় ভাইবোনের মধ্যে জামাল ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান। পরিবারের প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে সবাই বাকরুদ্ধ। স্বজনরা জানান, জামাল সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বড় ছেলে সাজিদুল আহমেদ শাওন ও ছোট ছেলে সামিউন আহমেদ লিমন টঙ্গীর সিরাজউদ্দিন সরকার

বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। শাওন এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। লিমন পিএসসি পরীক্ষার্থী। বাবা তাকে বেশি আদর করত বলে মাতম করছে আর মূর্ছা যাচ্ছে লিমন। জামালের স্ত্রী সালমা আক্তার শান্তি নির্বিকার। কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি মিলিয়ে গেছে। এক অনিশ্চয়তায় অন্ধকার নিয়ে তাকিয়ে থাকেন স্বজনের দিকে।

মা বিলাপ করছেন- আমার জামাল কোথায়। বাবা আবদুল মান্নান বলছেন, পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ। কী দুঃসহ যন্ত্রণা। জামালের ছোট ভাই রোমেল আহমেদ জানান, ভাইয়ের পছন্দে কেনা সেই গরু কোরবানি দেওয়া হয়নি। ভাইয়ের মৃত্যুর পর গোটা পরিবারে এখন অন্ধকার নেমে এসেছে। এদিকে কলেজছাত্র ফরহাদ আহমেদের পারিবারিক সূত্র জানায়, ফরহাদ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে ১০ আগস্ট ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বেলা পৌনে ১২টায় সেখানে তিনি মারা যান। ঈদের আগের দিন এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ফরহাদের পরিবারসহ গোটা গ্রামে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। ফরহাদের মৃত্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক শোক প্রকাশ করে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন।