বঙ্গবন্ধু হত্যার সেই প্রথম প্রতিবাদকারীদের কথা

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯      

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় প্রথম প্রতিবাদ উঠেছিল প্রয়াত জাতীয় নেতা ও বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের জন্মস্থান কিশোরগঞ্জে। গোটা জাতি সে দিন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেও কিশোরগঞ্জের প্রগতিশীল কয়েকজন সাহসী যুবক বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন।

বেতারে হত্যাকাণ্ডের খবর প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন সাহসী তরুণ শহরের স্টেশন সড়কের রঙমহল সিনেমা হল প্রাঙ্গণে এসে জড়ো হন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন রাজপথে। তারা স্লোগান দিলেন, 'ডালিমের ঘোষণা- মানি না মানব না, মুজিব হত্যার পরিণাম- বাংলা হবে ভিয়েতনাম, মুজিব হত্যার বদলা নেব- বাংলাদেশের মাটিতে' ইত্যাদি। সেদিনের প্রতিবাদ মিছিলটি রঙমহল সিনেমা হল-সংলগ্ন ছাত্র ইউনিয়ন অফিস থেকে বের হয়ে পুরান থানা, একরামপুর, বড়বাজার, ঈশা খাঁ রোড, আখড়াবাজার, কালীবাড়ি মোড় হয়ে থানার সামনে দিয়ে রঙমহল সিনেমা হলে এসে শেষ হয়।

সেই ঐতিহাসিক প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন কমিউনিস্ট নেতা প্রয়াত অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, অ্যাডভোকেট অশোক সরকার, অধ্যক্ষ হালিমদাদ খান রেজোয়ান, হাবিবুর রহমান মুক্তু, ডা. এনামুল হক ইদ্রিস, প্রয়াত সেকান্দার আলী ভূইয়া, পীযূষ কান্তি সরকার, অলক ভৌমিক, আকবর হোসেন খান, অধ্যক্ষ গোলাম হায়দার চৌধুরী, রফিক উদ্দিন পনির, নূরুল হোসেন সবুজ, স্বপন গোপাল দাস, আলী আজগর স্বপন, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান মানিক,

নির্মলেন্দু চক্রবর্তী, মতিউর রহমান, আবদুল আহাদ, অরুণ কুমার রাউত, সৈয়দ লিয়াকত আলী বুলবুল প্রমুখ।

মিছিল শেষে জাহেদের চা স্টলে বসে মিছিলকারীরা যখন চা পান করছিলেন, তখন তাদের গ্রেফতার করতে এক ট্রাক পুলিশ সেখানে আসে। সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আত্মগোপন করেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন জানান, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারীদের মধ্যে আমিরুল ইসলাম, সেকান্দার আলী ভূইয়াসহ আজ অনেকেই আমাদের মাঝে নেই। আজ যারা জীবিত রয়েছেন তারা চান, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করা হোক।

সেদিনের প্রতিবাদকারীদের একজন তৎকালীন ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট অশোক সরকার বলেন, বঙ্গবন্ধু ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর হওয়ায় জাতি দীর্ঘদিনের কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেলেও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনও চক্রান্তে লিপ্ত। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।