ভোলায় শিশু ধর্ষণ

মামলার ২ আসামি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯      

ভোলা প্রতিনিধি

ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় প্রতিবেশীর ঘরে হাতে মেহেদি রাঙাতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার দুই আসামি কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুরের জনতা বাজার এলাকায় 'গোলাগুলিতে' তারা নিহত হয় বলে পুলিশের দাবি। তারা হলো সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ আহম্মেদের ছেলে আল আমিন (২৮) ও কামাল মিস্ত্রীর ছেলে মঞ্জুর আলম (৩৪)।

গতকাল নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ

সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, মঙ্গলবার মধ্যরাতে সদর থানার একটি টহল দল খবর পায় দক্ষিণ রাজাপুর মেঘনা নদীর পাড়ে দু'দল জলদস্যুর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে গাড়ি দেখে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তারা। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রায় ১০ মিনিট ত্রিমুখী গোলাগুলি হয়। এক পর্যায়ে ট্রলারে করে কিছু জলদস্যু মেহেন্দীগঞ্জের দিকে পালিয়ে যায়। পরে টহল দল ঘটনাস্থলে দু'জনের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় একটি দেশি বন্দুক, একটি কার্তুজ, একটি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মরদেহগুলো প্রথমে জলদস্যু হিসেবে সদর হাসপাতালে আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার চরসামাইয়া গ্রামের দুই ব্যক্তি নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করেন। নিহতরা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী গণধর্ষণ মামলার আসামি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার আগের রাতে পাশের বাড়ির এক আত্মীয়ের কাছে মেহেদি লাগাতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয় সদর উপজেলার চরছিফলি গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী আল অমিন ও মঞ্জুর আলম তাকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির সামনের কাচারিতে ফেলে যায়। প্রায় অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ওই রাত সাড়ে ১০টায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক তৈয়বুর রহমান জানান, শিশুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রথমে রক্ত বন্ধ হচ্ছিল না। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রক্ত বন্ধ করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন দুপুরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।