মনোহরগঞ্জে ছাত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলার অভিযোগ

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজ মেয়েকে অজ্ঞাত স্থানে আটক রেখে রাসেল হোসেন নামে এক কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণের মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ রাসেলকে গ্রেফতারের পর গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। সে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র এবং ওই উপজেলার উত্তর হাওলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর হাওলা গ্রামের একই বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মোতালেবের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছে আমার। এ নিয়ে আবদুল মোতালেব ও তার ছেলেরা প্রায় সময় আমাকে হুমকি দিয়ে আসছেন মামলা-হামলা করবে এবং আমার ছেলেকে কারাগারে পাঠাবে।

তিনি আরও জানান, রাসেলের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটানো এবং আমাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ছেলের বিরুদ্ধে অপহরণের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে।

রফিকুল ইসলামের আরও অভিযোগ, আবদুল মোতালেবের মেয়ে সায়মুন নাহারকে তার স্ত্রী, চাচা মিজানুর রহমান জবিউল্লাহ এবং মামা ওমর ফারুক মিলে পরিকল্পিতভাবে অজ্ঞাত আত্মীয়ের বাড়িতে আটক রেখে ঘটনা সাজিয়ে রাসেলের বিরুদ্ধে অপহরণের মিথ্যা মামলা করেছে। সায়মুনকে অপহরণের ঘটনায় তার ছেলে জড়িত নয়। মামলার বাদীপক্ষ জানে তার মেয়ের সন্ধান। তাদের গ্রেফতার করলে সঠিক তথ্য উঠে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সায়মুন নাহারের মা কামরুন নাহার সাংবাদিক নাম শুনে মোবাইল ফোনটি তার মামা ওমর ফারুকের কাছে দিয়ে দেয়। তারপর মামা ওমর ফারুক জানান, সায়মুন নাহারকে তার এক বান্ধবী বাড়ি থেকে নিয়ে গেছেন। ওই বান্ধবীর সঙ্গে সায়মুন নাহারের চলে যাওয়ার ঘটনায় রাসেল জড়িত কি-না, এমন সন্দেহে কামরুন নাহার ওই ছেলের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেছে। তিনি আরও জানান, সায়মুন নাহার লাকসামে থেকে পড়ালেখা করায় তার মা লাকসাম থানায় মামলা করেছে।

লাকসাম থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, অপহরণের অভিযোগে রাসেল নামে এক ছেলেকে পুলিশ তার নিজ গ্রাম মনোহরগঞ্জের উত্তর হাওলা থেকে গ্রেফতার করেছে। সে অপহরণের ঘটনায় জড়িত কি-না মামলা তদন্ত করলে আসল তথ্য জানা যাবে।