নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস

ধর্ষণ-হত্যা বন্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

নারী-শিশু নির্যাতক, ধর্ষক ও হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ২৪তম নারী নির্যাতন প্রতিরোধ (ইয়াসমিন হত্যা) দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা এ আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে সংগঠনটি মিছিল বের করে, যা প্রেস ক্লাব থেকে হাইকোর্টের কদম ফোয়ারা পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট রাজধানী ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে দিনাজপুরের কিছু বিপথগামী পুলিশের হাতে পৈশাচিকভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় চৌদ্দ বছর বয়সী কিশোরী ইয়াসমিন আক্তার। তার পরই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দিনাজপুরসহ সারাদেশের মানুষ। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আন্দোলনের মুখে ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় হয়। এর পর ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। ইয়াসমিন হত্যার পর ২৩ বছর কেটে গেলেও নারী নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা কমেনি, বরং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই বছরের প্রথম ৬ মাসে ২ হাজারের বেশি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩১ জন।

বক্তারা আরও বলেন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, পিটিয়ে হত্যা, যৌতুকের কারণে হত্যা, এসিডে ঝলসে দেওয়া, ইন্টারনেটে ছবি ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করাসহ বর্তমানে নির্যাতনের ধরন বেড়েছে। ছয় বছরের শিশু থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধা, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র, সমতল বা পাহাড়ের আদিবাসী, সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু কেউই এ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যাসহ অন্যান্য নির্যাতনের হারও অন্য সময়ের চেয়ে বেশি। এ প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মামলা হয় না। যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয় সেগুলোও বছরের পর বছর ঝুলতে থাকে। সহজে নিষ্পত্তি হয় না। দেখা যায়, যে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে তার মাত্র ৩ শতাংশের সাজা হয়েছে। এসব অপরাধের বিচার না হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ ক্ষমতাকেন্দ্রিক শাসক দলের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সংশ্নিষ্টতা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু। সংগঠনের ঢাকা নগর শাখার সদস্য রুখসানা আফরোজ আশার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন ফোরামের ঢাকা নগর শাখার সদস্য পারভীন আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, ঢাকা নগর শাখার সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, সুলতানা আক্তার প্রমুখ।

১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আন্দোলনরত জনতার ওপর গুলি চালিয়ে ৭ জনকে হত্যা করে পুলিশ। এ সময় আহত হয় আরও শতাধিক মানুষ। এরপর থেকেই ২৪ আগস্ট দেশব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।