বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ফয়সাল আযম ফাইনসহ তার সহযোগী ফিরোজ ও সুব্রত ঘোষ অর্ণব। গতকাল শনিবার পার্কমোড় থেকে তাদের গ্রেফতার করা  হয়। রংপুর তাজহাট থানার ওসি শেখ রোকনুজ্জামান এ তথ্য  নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গত ২১ আগস্ট আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হলের বেশ কয়েকটি কক্ষে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করেন ছাত্রলীগ নেতা ফাইন ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় শুক্রবার ফাইনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া। অন্য আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক  রুবেল হোসেন, বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক মিথিশ বর্মণ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি ইমরান কবীর, ছাত্রলীগ নেতা ফজলে রাব্বী, জিসান, সুব্রত ঘোষ অর্ণব, এলিট ও গোলাম মুর্শিদ। মামলায় ৪০-৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও মামলার বাদী তুষার কিবরিয়া বলেন, ফয়সাল আযম ফাইনের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা প্রথমে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। পরে তারা তিনটি কক্ষে হামলা করে জাতির পিতা ও তার কন্যার ছবি ভাংচুর করে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগে বিদ্রোহী গ্রুপ থাকতেই পারে। কিন্তু তারা আগস্ট মাসে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে বাধা দিতে পারে না। একই সঙ্গে আকস্মিকভাবে তারা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে হামলা করে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে।

তাজহাট থানার ওসি শেখ রোকনুজ্জামান বলেন, ছবি ভাংচুরের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদিকে ফাইনের অনুসারীরা তাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে মিছিল করতে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন