'ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে আমার গানের বুলবুলি, করুণ চোখে চেয়ে আছে সাঁঝের ঝরা ফুলগুলি...'। পড়ন্ত বিকেলে শাহবাগের গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে যখন আজাদী হোসেন গানটি গাইছিলেন, তখন কক্ষটির মধ্যে এক বেদনাবিধুর আবহ তৈরি হয়। গতকাল শনিবার এমন পরিবেশের মধ্যেই শুরু হয় স্বাধীনতা-উত্তরকালের বাংলাদেশের অন্যতম এক নারী ঔপন্যাসিক রিজিয়া রহমানের স্মরণসভা।

রিজিয়া রহমান গত ১৬ আগস্ট রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে মারা যান। ষাটের দশক থেকে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও শিশুসাহিত্যে এই মানুষটির অবাধ বিচরণ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদক।

সন্ধ্যায় সেমিনার কক্ষে রিজিয়া রহমান স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন 'শিল্পিত'। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. হায়াৎ মামুদ। তিনি রিজিয়া রহমানকে নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের কীভাবে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলা যায়, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, যে কোনো শিক্ষিত বাবা-মায়ের উচিত বাড়িতে একটি পাঠাগার গড়ে তোলা। এতে সন্তানদের বারবার পড়তে বলতে হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক ও কলাম লেখক সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, জীবনঘনিষ্ঠ এই মানুষটির (রিজিয়া রহমান) লেখার মূল উপজীব্য বিষয় ছিল মানুষ। তিনি নিজেও ছিলেন সাদামাটা ধরনের।

কবি ও সাংবাদিক নাসির আহমেদ বলেন, মাতৃত্বপ্রবণ মন নিয়ে সমস্ত সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে পথ এগিয়েছেন রিজিয়া রহমান।

'শিল্পিত'র সাধারণ সম্পাদক কবি ওসমান গণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুনায়েদ হালিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক একেএম শাহনাওয়াজ। ঘরোয়া পরিবেশের এই আয়োজনে আলোচনা ছাড়াও গান, কবিতা, কথায় মুখর হয়ে উঠে আসেন রিজিয়া রহমান।

শিল্পকলায় পটচিত্রাঙ্কন কর্মশালা ও প্রদর্শনী : ষোলো বছরের ঊর্ধ্ব বয়সীদের নিয়ে পটচিত্রাঙ্কন ও কর্মশালার আয়োজন করে অন্তরকথা সংস্কৃতিচর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র। কর্মশালার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র বিতরণ ও পটচিত্রের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার ৪ নম্বর কক্ষে এ আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন অতিথি শিল্পী কাজী আনিসুল হক বরুণ, পটচিত্র প্রশিক্ষক পটুয়া নাজির হোসেন, অভিনেতা কল্লোল চৌধুরী, কাজী রাকীব এবং আয়োজক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক রহিম সুমন। এর আগে পটুয়া নাজির হোসেনের পটচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কাজী আনিসুল হক বরুণ।

'বঙ্গবন্ধুর জয়যাত্রা' গ্রন্থ : জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে 'বঙ্গবন্ধুর জয়যাত্রা' শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী। সংগঠনটির একক বক্তৃতাগুলো নিয়ে প্রকাশিত বইটির সম্পাদনা করেছেন মুনতাসীর মামুন ও তপন পালিত। গতকাল জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে 'বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা ও তার বাস্তবায়ন' শীর্ষক একক বক্তৃতানুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। একক বক্তৃতা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। ইতিহাস সম্মিলনীর সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান ও শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পাঁচ দিনের আয়োজন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' থেকে পাঠ নিয়ে পাঁচ স্কুলের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র। অনুষ্ঠানে থাকছে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গ্রন্থের প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর লেখা গ্রন্থ থেকে পাঠ ও প্রতিযোগিতা। আজ রোববার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হবে এ আয়োজন। সকাল ১০টায় এর উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। এতে অংশ নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫০ শিক্ষার্থী।

গতকাল জাতীয় গ্রন্থ ভবনের সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কবি মিনার মনসুর। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপ-পরিচালক সুহিতা সুলতানা, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ এবং বাংলাদেশ প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি শ্যামল পাল। আয়োজনের সহযোগিতায় থাকছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। ২৯ আগস্ট শেষ হবে এ আয়োজন।

মন্তব্য করুন