নিসচার প্রতিবেদন

ঈদের ছুটিতে সড়কে ১৮০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

গত ১০ থেকে ১৮ আগস্ট ঈদের ছুটিতে সড়কে ১৩০টি দুর্ঘটনায় ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৪৪ জন। এই সময় নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১১ জন। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, আড়াই মাস আগে ঈদুল ফিতরের সময় ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক। কিন্তু ঈদুল আজহায় তা ভোগান্তিতে পরিণত হয়। ঢাকা-উত্তরবঙ্গে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট হয়েছে। খুলনা ও যশোর অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়েছে।

নিসচার পর্যবেক্ষণে এসেছে, রেলপথে সিডিউল বিপর্যয় ও টিকিট কালোবাজারির কারণে যাত্রী হয়রানি বেড়েছে। অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতেও ভোগান্তি ছিল। তবে সড়ক ও রেলের তুলনায় স্বস্তিকর ঈদযাত্রা ছিল নৌপথে। ঈদের আগের দিন সদরঘাট টার্মিনালে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না নিসচার চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। প্রতিবেদন তুলে ধরেন নিসচার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লিটন এরশাদ। তিনি জানান, জাতীয় পত্রিকা, পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত খবর থেকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ও হতাহতের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সারাদেশে নিসচার ১২০টি শাখা রয়েছে। তাদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাবেক চেয়ারম্যান ও নিসচার উপদেষ্টা আইয়ুবুর রহমান বলেন, ঈদের আগে সড়ক ব্যবস্থাপনা নজরদারি থাকলেও ঈদের পরে তা ঝিমিয়ে পড়ে। এ কারণে চালকরা ফিরতি যাত্রায় বেপরোয়া গাড়ি চালান। এজন্য ঈদের আগের দু'দিনের চেয়ে ঈদের দিন থেকে পরবর্তী চার দিনে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা বেশি।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, এসবের পেছনে রয়েছে- ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেক, পণ্যবাহী বাহনে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক ও চালকের সহকারী, চালকে বিশ্রাম না দেওয়া, ঈদের পরে নজরদারিতে শিথিলতা, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন ও করিমন চলাচল, মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচল।