মিয়ানমারের কাছে নতিস্বীকার করেছে সরকার- মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারের ইচ্ছাপূরণে সরকার কাজ করছে বলেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে মনে করে বিএনপি। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।

বৈঠকে ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি কর্মসূচি পরিবর্তন করে ২ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা ১ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের কাছে নতিস্বীকার করেছে। মিয়ানমার যে ফর্মুলা দিয়েছে, সেই ফর্মুলার কাছে তারা নতিস্বীকার করছে। সর্বশেষ সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিল। তার সমাধান হয়নি। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, তাদের নিজের সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে তারা যায়নি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়টি সুষ্ঠু ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সমস্যার সমাধানে সব দলের সঙ্গে সংলাপ করতে হবে। একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে। এর মাধ্যমে একটি সমাধান বের হয়ে আসবে।

স্থায়ী কমিটির দুই ঘণ্টার বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক বুধবার :খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে আগামী বুধবার বৈঠক করবে বিএনপি। গতকাল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের কূটনৈতিক উইং শাখার দায়িত্বশীল নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক এজেন্ডা তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলকে দলের অবস্থান জানানোর জন্যই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বিচার বিভাগ কীভাবে পক্ষপাতিত্ব করছে এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরতে চান নেতারা।

বিএনপির কূটনৈতিক শাখার এক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যু ছাড়াও তারা দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বল অবস্থার বিষয়েও বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করবেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক হলেও সরকার দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অনিশ্চিত করে ফেলেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে ১২ লাখের মধ্যে মাত্র তিন হাজার রোহিঙ্গাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এ ধরনের আরও অনেক বিষয় তারা আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে চান।

বৈঠকে কূটনৈতিক উইংয়ের প্রধান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।