জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা

বঙ্গবন্ধু কোনো দলের নয়, সবার

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো নির্দিষ্ট গোত্র বা দলের নয়, তিনি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সম্পদ। জাতীয় নেতাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সবার ওপরে। শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করতে হবে। তার ছবির অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে একটি আইন করার দাবি জানান তারা।

গতকাল শনিবার এফবিসিসিআই আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এ দাবি জানান ব্যবসায়ী নেতারা। এফবিসিসিআই সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি এম এ কাশেম, মাহবুবুর রহমান, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, মীর নাসির হোসেন ও এ. কে. আজাদ। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সভাপতিত্ব করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামী জীবন, দূরদর্শিতা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাপরিধি বিশাল ছিল। মুহূর্তেই তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। বঙ্গবন্ধু যেসব বিষয় অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তার কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই পথেই চলছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের সাম্প্রতিক নানা আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী দিনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মদক্ষতা বাড়ানো এবং জনসেবায় সরকারি-বেসরকারি সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা। তাই শুধু আওয়ামী লীগই নয় বরং দেশের সব রাজনৈতিক দলেরই তাদের কার্যক্রমে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ব্যবহার করা উচিত। বঙ্গবন্ধু কোনো দলের নন, সকলের। সবাইকে জাতির পিতার ছবি ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, জয় বাংলা দলীয় স্লোগান নয়। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে এ স্লোগান শুনে পাকিস্তানিরা বলত 'মুক্তি আ গেয়া'। দেশের সরকারি কর্মকর্তারা জয় বাংলা বলতে লজ্জা পান। প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তাকে জয় বাংলা বলতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে স্লোগানে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই স্লোগান বলতে সচিবদের লজ্জা কেন। এই স্লোগান সবার বলা উচিত।

এ. কে. আজাদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কোনো দলের নয়। তিনি ১৬ কোটি মানুষের।

তার ছবির যেন কোনো জায়গায় অপব্যবহার না হয়। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে জাতির পিতার ছবি ব্যবহার করছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির অপব্যবহার রোধে জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে একটি বিল আনার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান আগামী সংসদে এই প্রস্তাব দেবেন বলে আমরা আশা করি। এ. কে. আজাদ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির সম্পদ। তার চেতনায় দেশ এগিয়ে যাবে।

মীর নাসির হোসেন বলেন, বাঙালির ইতিহাসের কালো দিন ১৫ই আগস্ট। দুঃখ লাগে যিনি জীবন যৌবন দিয়ে দেশ গঠন করেছেন, সেই নেতাকে খুন করেছে এ দেশের মানুষ। এটা গ্লানির- যাদের জন্য স্বাধীনতা এনেছেন, তাদের হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারব না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। রাজনৈতিক মত ভিন্ন হতে পারে, বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার সুযোগ নেই।

কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে দেশ একুশ বছর পিছিয়ে থাকত না। ২০১৯ সালের আগেই উন্নত দেশ হতো। এখন বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে কোনো গোত্রের বা দলের দেখতে চাই না।

মাহবুবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের। তাকে জাতীয়ভাবে দেখতে হবে। দলীয় পরিচয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে জাতীয়ভাবে দেখবে। তার প্রতি সবাই শ্রদ্ধা জানাবেন।

মো. আবুল কাসেম বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির নন, তিনি বিশ্ববন্ধু। তিনি বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। তার আদর্শ মেনে মনোবল ঠিক রেখে কাজ করলে লক্ষ্য অর্জন হবেই। তার লক্ষ্য অনুযায়ী এ দেশের মানুষ ক্ষুদ্র দোকানি থেকে এখন শিল্পপতি হয়েছেন। তিনি না থাকলে ফকির থাকতাম।

শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বঙ্গবন্ধু তার দূরদর্শী নীতিমালা ও প্রচেষ্টায় দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পর এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নৃশংস ঘটনা না ঘটলে বাংলাদেশ আরও অনেক আগেই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যেত।

এফবিসিসিআই সহসভাপতি মো. রেজাউল করিম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সভা শেষে বঙ্গবন্ধুর 'জীবন ও কর্ম' নিয়ে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।