অবশেষে আলোর মুখ দেখছে খুলনা স্যুয়ারেজ প্রকল্প

দরপত্র নভেম্বরে প্রথম পর্যায়ে ব্যয় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

হাসান হিমালয়, খুলনা

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর খুলনায় পয়ঃনিস্কাশন (স্যুয়ারেজ) লাইন বসাতে যাচ্ছে খুলনা ওয়াসা। আগামী নভেম্বরে চারটি প্যাকেজে প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হবে। এতে ব্যয় হবে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের আওতায় নগরীর সীমান্তবর্তী মাথাভাঙ্গা মৌজায় ১২ একর জমিতে একটি এবং ঠিকারাবাঁধে ২২ একর জমিতে অন্য আরেকটি বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ হবে। এর মধ্যে মাথাভাঙ্গা মৌজায় প্রতিদিন তিন কোটি লিটার এবং ঠিকারাবাঁধে প্রতিদিন ছয় কোটি লিটার বর্জ্য পরিশোধন করা হবে।

এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মাথাভাঙ্গা পরিশোধন কেন্দ্রে বর্জ্য নিয়ে যেতে ১১০ কিলোমিটার পাইপলাইন ও তিনটি পাম্প স্টেশন এবং ঠিকারাবাঁধ শোধনাগারে বর্জ্য নিয়ে যেতে ১৪০ কিলোমিটার পাইপলাইন ও সাতটি পাম্প স্টেশন বসানো হবে। মাটির ৮ থেকে ১২ ফুট গভীরতায় এসব পাইপ বসানো হবে। এরই মধ্যে নগরীর ভেতরে পাম্প স্টেশন নির্মাণের জন্য ১০টি এলাকায় এবং শোধনাগার নির্মাণের জন্য দুটি এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় এখন গৃহস্থালি, মানুষের ও শিল্পবর্জ্য নিস্কাশন হয় উন্মুক্ত পরিবেশে। সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে পানি বাড়ির পাশের ছোট ড্রেন, সেখান থেকে বড় ড্রেন, এরপর খাল দিয়ে বর্জ্য নদীতে চলে যায়। বাড়ির আশপাশ ও বড় ড্রেনগুলোর ৮০ শতাংশই উন্মুক্ত। এজন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে খুলনার মানুষ। ২০০৮ সালের ৫ মার্চ খুলনা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) গঠন করা হলেও এর ১১ বছর পর তারা পয়ঃনিস্কাশনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

প্রকল্প থেকে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় নগরীর ১১ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে পাইপলাইন বসানো হবে। এসব ওয়ার্ডের প্রতিটি বাড়ির সামনেই ওয়াসার পয়ঃনিস্কাশনের পাইপ থাকবে। মানুষের বাড়ির ময়লা পানি এবং সেপটিক ট্যাঙ্কের বর্জ্য ও পানি পড়বে এ লাইনে। এরপর পাইপে করে বর্জ্য নগরীর ভেতরের ১০টি পাম্প স্টেশনে যাবে। সেখান থেকে পাম্প করে বর্জ্য দুটি শোধনাগারে পাঠানো হবে। প্রথম প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে নগরীর ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এসব এলাকার বর্জ্য পরিশোধনের জন্য এখনই আড়ংঘাটার শলুয়া এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ জানান, প্রাকসম্ভাব্যতা জরিপ পরিচালনার পর এডিবি প্রকল্পে অর্থায়ন করতে সম্মত হয়। এরপর জমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। আগামী অক্টোবরে নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নভেম্বরেই প্রকল্পের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পে নগরীর ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এতে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন যেসব স্থানে ড্রেন রয়েছে তার নিচেই বসবে এসব পাইপলাইন। এজন্য নগরীতে উন্মুক্ত কোনো বর্জ্যের ড্রেন থাকবে না।