ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চরআলগী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা লোকমান আলীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই মামলা করেছেন একই ইউনিয়নের আরেক মুক্তিযোদ্ধা আবু সাইদ। গত ৪ আগস্ট ময়মনসিংহের ৭ নম্বর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত মোকদ্দমাটি আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছেন। তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গিয়াস উদ্দিন ও লোকমান আলী।

এ মামলার প্রতিবাদে গতকাল রোববার উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সাবেক উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার মফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল হক মতি, শফিকুল আমিন খসরু, সলিম উল্লাহ মোস্তফা, আইয়ুব আলী প্রমুখ।

মামলার বিবরণে বাদী আবু সাইদ উল্লেখ করেন, গিয়াস উদ্দিন, লোকমান আলীসহ এজাহারনামীয় ১৪ জনই ১৯৭১ সালে রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা এবং হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। ১৯৭১ সালের ১৫ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংঘটিত বর্বরোচিত চরআলগী হত্যাকাণ্ডে প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, শত শত নিরীহ মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনের সময় গিয়াস উদ্দিন, লোকমান আলীসহ আসামিরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহায়ক হিসেবে একই অপরাধ করেছেন। ১৪ জনের মধ্যে রাজাকার নুরুল ইসলাম ওরফে বাবুল ফরাজী, রাজাকার আব্দুল কাদির, রাজাকার চাঁন মিয়াসহ অন্তত ছয়-সাতজন মারা গেছেন। মামলায় গিয়াস উদ্দিনকে আলবদর উল্লেখ করে ১৪ নম্বর ও লোকমান আলীকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় চরআলগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মফিজ আহম্মদকে ১ নম্বর ও তার স্ত্রী কামরুন নেছাকে ৩ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে।

আবু সাঈদ বলেন, আমি মিথ্যা মামলা করিনি, সত্য মামলা করেছি। যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করব। তিনি আরও বলেন, প্রতিবাদ সমাবেশে যারা বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের মধ্যেও অনেকে মুক্তিযোদ্ধা নন। তাদের বিরুদ্ধেও উপজেলা পরিষদে অভিযোগ দেওয়া আছে।

মামলার ১ নম্বর সাক্ষী চরআলগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মফিজ আহম্মদ এ ব্যাপারে বলেন, গিয়াস উদ্দিন ও লোকমান আলী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। মামলায় আমাকে ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে। কিন্তু আমি সাক্ষ্য দেব কি-না, সে ব্যাপারে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

মামলায় অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন ও লোকমান আলী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ আলবদর, আলশামস বলে মামলা হয়েছে। আমরা এর সুবিচার চাই।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গফরগাঁও উপজেলা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মফিজ উদ্দিন বলেন, গিয়াস উদ্দিন ও লোকমান আলী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

মন্তব্য করুন