মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে লাশ হলেন বাবা

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

স্কুল ছুটির পর দশম শ্রেণির ছাত্রী সামিয়ার অপেক্ষা বাবার জন্য। মোটরসাইকেলে বাবা আফসার উদ্দিন তাকে নিতে আসবেন স্কুলে। সময় পার হয়ে যায়, বাবা আসেন না। তিনি কখনও বিলম্ব করেন না স্কুলে পৌঁছাতে। প্রতিদিন ছুটির আগেই মোটরসাইকেল নিয়ে স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন মেয়ের জন্য। কিন্তু আজ কেন দেরি হচ্ছে! মেয়ের অস্থিরতা বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে খবর আসে, স্কুলে যাওয়ার পথে প্রাইভেটকার চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন আফসার। বাবার মৃত্যুতে পাগলপ্রায় সামিয়া। বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। কোনোভাবেই বাবার চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না তার আদরের সামিয়া।

রোববার দুপুরে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সামিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী। তাদের বাসা বংশালের মকিম বাজার গলিতে। ৫৮ বছরের আফসার উদ্দিন বংশালে মোটরসাইকেল পার্টস ব্যবসায়ী। তিনি প্রতিদিন মোটরসাইকেলে মেয়েকে স্কুলে আনা-নেওয়া করতেন। তার দুই মেয়ের মধ্যে সামিয়া ছোট।

আফসারের ভাই রিয়াজ উদ্দিন জানান, গতকাল সকালে সামিয়াকে স্কুলে রেখে আসেন আফসার। দুপুরে বাসা থেকে বের হন স্কুলের উদ্দেশে, মেয়েকে আনতে। মোটরসাইকেলে তেল কম থাকায় নীলক্ষেত মোড়ের পাশের ফিলিং স্টেশনে যান। তেল নিয়ে বের হওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকার তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি প্রাইভেটকারের সামনে ছিটকে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে ছেঁচড়ে নিয়ে সামনে এগোতে থাকে গাড়িটি। পথচারীরা প্রাইভেটকারটি আটক করে। মুমূর্ষু অবস্থায় আফসারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে স্বজনরা ছুটে যান হাসপাতালে।

লালবাগ থানার ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রাইভেটকারের মালিক আজমল নিজেই  গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। গাড়িটিসহ তাকে আটক করে জনতা। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয়। তবে নিহত আফসারের নিকটাত্মীয়রা এ বিষয়ে মামলা করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি লাশের ময়নাতদন্ত করতেও চাইছেন না তারা। গাড়ির মালিক ও নিহতের পরিবারের মধ্যে সন্ধ্যায় আপসের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানান তিনি।