সিলেটে জরিমানা আতঙ্ক

পরিচ্ছন্নতা অভিযান

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

ফয়সল আহমদ বাবলু, সিলেট

সিলেট নগরীর বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। যে কোনো সময় যে কারও বাড়িতে অভিযান চালাতে পারে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। অনেকেই এ আতঙ্কে বাসা-বাড়ি পরিস্কার করছেন। আবার অনেকেই ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে নিজ থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছেন। যাতে এডিস মশার কোনো লার্ভা না থাকে বাসা-বাড়িতে। গত কয়েক দিন ধরে নগরীর বিভিন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে সিসিক। এডিসের লার্ভার সন্ধান পেলেই করা হচ্ছে জরিমানা।

ডেঙ্গু নিয়ে দেশজুড়েই উদ্বেগ-আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে অসচেতনতাকে। সচেতনতার অভাবে বাসা-বাড়ির অপরিচ্ছন্ন স্থানে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। আর এ কারণেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পরপরই সিলেট নগরীতে মশার ওষুধ ছেটানো হয়। মশার ওষুধ যারা ছেটাতে যান তারা নগরীর বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে যান। বিষয়টি তারা সিসিকের পরিচ্ছন্নতা শাখায় অবগত করেন। তারা জানান, কিছু কিছু বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমন অবস্থা সেখানে মশার ওষুধ ছিটিয়ে লাভ হবে না। নিজেদের বাসাবাড়ি নিজেদেরই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সিসিকের কর্মচারীদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেন সিসিক কর্মকর্তারা। তারা মশার ওষুধ ছেটানোর পরপরই নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেন।

গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও আশপাশ এলাকা এডিস মশার অভয়ারণ্য হিসেবে এরই মধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। একাধিকবার অভিযানে এসব স্থানে মিলেছে এডিস মশা ও লার্ভা। গত মঙ্গল, বুধ এবং বৃহস্পতিবারের অভিযানে সেখানে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়।

প্রতিষ্ঠানের সামনে টায়ার ফেলে রেখে এডিস মশা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখায় দক্ষিণ সুরমার কদমতলী এলাকার বৃহস্পতিবার তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও মালপত্র জব্দ করা হয়। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিজে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চালানো এ অভিযানের তদারকি করেন। এ ব্যাপারে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, নগরীতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেললে ও টায়ার, টিউব, ফুলের টবে জমে থাকা পানি পরিষ্কার না করলে জরিমানা করা হবে।

মেয়র আরও জানান, নগরীর ২৫, ২৬ ও ২৭নং ওয়ার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এই ওয়ার্ডগুলো অতিক্রম করেই নগরীতে প্রবেশ করতে হয়। এখানে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল থাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য টায়ার-টিউবের দোকান। তাই এ দোকান মালিকদের সতর্ক করে নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের বিভিন্ন স্থানে এডিস মশা ও লার্ভার সন্ধান পাওয়ার কথা উল্লেখ করে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, মশার ডিম থেকে লার্ভার সৃষ্টি হয়। লার্ভার পর তিনটি ধাপে ৮-৯ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপ নেয়। মশা নিধনে শুধু ওষুধ দিলে হবে না। সবাইকে সচেতন হতে হবে।