অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমিটি নিয়ে অসন্তোষ

বরিশাল বিএনপি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সুমন চৌধুরী, বরিশাল

বরিশালে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চাঙা হচ্ছে না। এক বছর ধরে সুপারফাইভ কমিটিতে (সভাপতি-সিনিয়র সহসভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক) আটকে আছে জেলা ও মহানগর ছাত্রদল। স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের পূর্ণ করা কমিটি হলেও তা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে সুপারফাইভ নেতাদের বিরুদ্ধে। দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। এসব কারণে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ সংগঠনের কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছেন।

গত বছর আগস্টে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সুপারফাইভ কমিটি গঠন করা হয়। সুপারফাইভ কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছাত্রদলের জেলা ও মহানগর কমিটি এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল সম্প্রতি ১৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করলেও জেলা কমিটি চলছে সুপারফাইভ দিয়ে। মহানগরের কমিটি নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন সুপারফাইভে থাকা সিনিয়র সহসভাপতি জাহিদুল ইসলাম সমীর, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুজ্জামান খান ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক খান মো. আনোয়ার। এ তিনজন সমকালকে জানান, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি। এমনকি নামের তালিকাও তাদের দেখানো হয়নি। গোপনে কেন্দ্র থেকে কমিটি অনুমোদন করানো হয়েছে। কমিটিতে কাদের নাম রয়েছে তা এখনও জানেন না বলে দাবি করেন এই তিনি নেতা।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য ২৯০ জন নেতাকর্মী তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। সুপারফাইভে থাকা ৫ জন একসঙ্গে বসে জীবনবৃত্তান্তগুলো যাচাই-বাছাই করেন। তারা ১৭১ জনের বেশি নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন। কেন্দ্র থেকে ১৭১ জনকে নিয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। তিন নেতার অভিযোগ প্রসঙ্গে পিন্টু বলেন, বাদ পড়াদের মধ্যে তাদের অনুগত কেউ থাকতে পারে। যে কারণে তারা ব্যক্তিগত ক্ষোভ জানাচ্ছেন।

ছাত্রদলের জেলা ও মহানগর দুটি ইউনিটিই এক বছর ধরে চলছে সুপারফাইভ দিয়ে। সুপারফাইভের দুই নেতার স্বজনপ্রীতির কারণে মহানগরের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কমিটি ১০টি উপজেলা এবং নগরীর কলেজ ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোও করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিগত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সুজন

বলেন, গত ১৪ বছরে কোনো উপজেলায় ছাত্রদলের কমিটি হয়নি। সুপারফাইভ কমিটি একবছরে নিজেরাই পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজ আলম মিঠু বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল শেষে তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করবেন। থানা কমিটিও শিগগিরই হবে। গত এক বছরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া প্রসঙ্গে মিঠু বলেন, এত তাড়াতাড়ি করতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, গত এক বছরে সব কর্মসূচিতে নগর ছাত্রদলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তিন মাস আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে কেন্দ্র থেকে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। কেন্দ্র ফের নির্দেশ দিলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ওয়ার্ড ও কলেজ কমিটিগুলো গঠন করা হবে।

যুবদলের জেলা ও মহানগরের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হলেও সিনিয়র-জুনিয়র মূল্যায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে সুপারফাইভে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা জানান, জুনিয়র এবং নিষ্ফ্ক্রিয়দের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ আকন বিপ্লব বলেন, কমিটির পদ পাওয়া নিয়ে নানা চাপ ও তদবির থাকে। এসব কারণে পদবণ্টনে কিছু ত্রুটি হয়েছে। তারপরও দীর্ঘ বছর পর সাবেক ছাত্রদল নেতারা অন্তত একটি পদ পেয়েছেন।

দলের অঙ্গসংগঠগুলোর এমন হাল প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে, তাতে সবার মতামত থাকা উচিত ছিল। ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে না পারার জন্য তিনি রাজনৈতিক পরিবেশকে দায়ী করেন। যুবদলের সিনিয়র-জুনিয়র মূল্যায়ন না হওয়ার বিষয়টি জানা নেই বলে দাবি করেন নগর বিএনপির এ নেতা। তিনি বলেন, বড় দলের অঙ্গ সংগঠনে সমন্বয় সৃষ্টি করার দায়িত্ব বিএনপির। তারা এসব বিষয় দেখবেন।