স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনিদের রাজনীতি করতে দেব না- ড. আব্দুর রাজ্জাক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনিদের রাজনীতি করতে দেব না- ড. আব্দুর রাজ্জাক

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ নেতারা - সমকাল

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ দেশে অবশ্যই একটি বিরোধী দল চায়। তবে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের খুনি এবং সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী অপশক্তিকে বাংলার মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগ একটি সঠিক রাজনৈতিক দল চায়, যারা সঠিকভাবে রাজনীতি ও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে।

গতকাল রোববার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে ঢাকা-১০ আসনভুক্ত ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানা এবং সব ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। আর জিয়া ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না- সেটি তার দল বিএনপিও কখনোই প্রমাণ করতে পারেনি, পারবেও না। জড়িত না থাকলে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করেছিল  কেন? এর জবাব খালেদা জিয়া দিত পারবেন? এই সূত্রে খালেদা জিয়া ও বঙ্গবন্ধুর খুনিরা একই সূত্রে গাঁথা। এখনও এই অপশক্তির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। সবাইকে আরও বেশি সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা হামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও আসামি করে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট ও তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেন, ওই সময় খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তাই এই ঘটনার দায়িত্ব তিনি কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

গ্রেনেড হামলা ও এর বিচার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতদিন পর এসে মির্জা ফখরুল ২১ গ্রেনেড হামলার ঘটনাকে নিন্দনীয় বলছেন। অথচ সে সময় সংসদে আলোচনা ও নিন্দা প্রস্তাব আনতে না দিয়ে উল্টো এ নিয়ে নির্মম তামাশা করেছিলেন তারা। তারেক রহমান হাওয়া ভবনে বসে নৃশংস এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।

ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, নগর নেতা অ্যাডভোকেট কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, তাসবীরুল হক অনুসহ থানা ও ওয়ার্ড নেতারা।

'কৃষি ও মৎস্য খাতে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ' :সিলেট ব্যুরো জানায়, কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ কৃষি ও মৎস্য খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন মৎস্য খাতকে টেকসই করে তুলতে গবেষণাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। গতকাল রোববার সিলেট নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে নগরীতে প্রথমবারের মতো 'টেকসই মৎস্য খাত' শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সিকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিয়ার রহমান হাওলাদারের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলি খান খসরু, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ড. মো. কবির ইকরামুল হক, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডগলাস সিম্পসন এবং ওয়ার্ল্ড ফিশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস প্রাইস।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সিকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. তরিকুল আলম। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন যুক্তরাজ্যের স্টার্লিং ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ডেভিস সি লিটল। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী কৃষি গবেষণায় বাংলাদেশ উৎকষ্ট স্থান হয়ে উঠছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপনীতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডু। সম্মেলনে ১৩টি দেশের ৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওরে গবেষণা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হবে।