ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি ১৩ বছরেও

ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবস আজ

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

দিনাজপুর প্রতিনিধি

আজ ২৬ আগস্ট 'ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবস'। ২০০৬ সালের এ দিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি প্রকল্প বাতিল, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং বিদেশি কোম্পানি এশিয়া এনার্জিকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় মানুষ। বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশ ও বিডিআর নির্বিচারে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন, আহত হন দুই শতাধিক। আহতদের কয়েকজন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। কিন্তু ঘটনার ১৩ বছরেও ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে সরকারের করা ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। উপরন্তু একাধিক মামলা মাথায় নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে ফুলবাড়ীবাসীকে।

ফুলবাড়ী চুক্তির ছয় দফার মধ্যে ছিল- বিদেশি কোম্পানি এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিস্কার, দেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন না করা, নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিহতদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, গুলিবর্ষণে দায়ীদের শাস্তি এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার।

ওইদিন গুলিবিদ্ধ বাবুল রায়ের শরীরের অধিকাংশই অবশ হয়ে গেছে। পঙ্গু হয়ে বেঁচে আছেন তিনি। নিহত পরিবারগুলো স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছে।

খনিবিরোধী গণআন্দোলনের নেতা ও সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের আহ্বায়ক ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র মুর্তুজা সরকার মানিক বলেন, সে সময় চুক্তির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই ঘটনার পর শেখ হাসিনা ফুলবাড়ীতে এসে আন্দোলনরত মানুষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের কাছে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিও জানান। কিন্তু সে চুক্তি চারদলীয় জোট সরকার বাস্তবায়ন করেনি। বর্তমান সরকারও এখন পর্যন্ত ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি। বরং পরবর্তী সময়ে খনিবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ফুলবাড়ীবাসীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। ফুলবাড়ীবাসীকে এখনও সেসব মামলা মাথায় বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর  রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে প্রয়োজনে ফের গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আজকের দিনটিকে 'জাতীয় সম্পদ রক্ষা দিবস' এবং সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠন ও ফুলবাড়ীবাসী 'ফুলবাড়ী শোক দিবস' হিসেবে পালন করবে। এজন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।