তৃতীয় দফায়ও পেছাল চার্জ গঠন

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

রাজশাহী ব্যুরো

সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলায় চার্জ (অভিযোগ) গঠনের দিন আবার পেছাল। ফলে হত্যাকাণ্ডের আড়াই বছরের বেশি সময় পরও বিচার শুরু হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, আসামি পক্ষ ঠুনকো অজুহাতে চার্জ গঠনের তারিখ পেছানোর আবেদন করায় বিচার বিলম্বিত হচ্ছে।

সর্বশেষ গতকাল রোববার আসামি পক্ষের আবেদনে চার্জ গঠনের দিন তৃতীয় দফায়ও পেছাল। আগামী ১ সেপ্টেম্বর পুনরায় চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেছেন রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার। এদিন মামলার প্রধান আসামি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার বরখাস্ত মেয়র হালিমুল হক মিরুর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, শিমুল হত্যা মামলাটি রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আসার পর প্রথম চার্জ গঠনের দিন ছিল ৮ আগস্ট। এর পরে দ্বিতীয় তারিখ ছিল ১৮ আগস্ট।

তৃতীয় দফায় ছিল ২৫ আগস্ট (গতকাল)। তবে আসামি পক্ষ নানা অজুহাতে বারবার চার্জ গঠনের তারিখ পেছানোর আবেদন করে। দ্বিতীয় তারিখে তারা মামলার ৯ নম্বর আসামি কালু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫১ ধারায় আটক হয়েছে বলে চার্জ গঠনের তারিখ পেছানোর দাবি করেন। এবার তারা মামলার ১৪ নম্বর আসামি সাহেব আলী ৩৪ ধারায় পাবনার শাহজাদপুর থানায় গ্রেফতার হয়েছে বলে চার্জ গঠনের তারিখ পেছানোর আবেদন করেন।

আইনজীবী এন্তাজুল বলেন, ১৫১ কিংবা ৩৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয় না। ৩৪ ধারা মাতলামো-সংক্রান্ত। সামান্য কিছু জরিমানা দিয়েই এ ধারা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়। কিন্তু আসামি পক্ষ কৌশলে মামলাটির চার্জ গঠন পেছানোর জন্য বারবার এসব ঘটনা কৃত্রিমভাবে ঘটিয়ে কোনো না কোনো আসামিকে আদালতে অনুপস্থিত দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, মামলার চার্জ গঠন হলে খুব দ্রুত বিচার কাজ শেষ হয়ে যাবে। তাই আসামি পক্ষ টাকার বিনিময়ে এসব ধারায় পুলিশকে দিয়ে গ্রেফতার দেখিয়ে সব আসামিকে হাজির করছে না।

গতকাল শুনানি শেষে বিচারক আটক সাহেব আলীকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন এবং উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকা অন্য ৩৬ আসামির জামিন বহাল রাখেন।

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মেয়র মিরুর বাড়িতে আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রীর মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ মিরু ও তার ভাই মিন্টুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত বছরের ডিসেম্বরে মামলাটি সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।