বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শিল্পকলায় ব্যতিক্রমী আয়োজন

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী। ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গবন্ধু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন এটি। ২০১২ সালের জুনে বইটি প্রকাশ হয়। ৩৩০ পৃষ্ঠার বইটির প্রতিটি পাতায় তার জীবনের নানা অজানা বিষয় ফুটে উঠেছে। নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দেশপ্রেমবোধ ও ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধুবিষয়ক বই প্রদর্শনী ও বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' পাঠ প্রতিযোগিতা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার থেকে বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টল দিয়ে সাজানো হয়েছে পাঁচ দিনের এই বই প্রদর্শনী। এখান থেকে প্রয়োজনীয় বইটিও কিনতে পারবেন আগতরা।

গতকাল ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। এ সময় তিনি বলেন, 'বাংলাদেশবিরোধী চলমান ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আর স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকেই এই কাজটি শুরু করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবন গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আয়োজনে ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কবি মিনার মনসুরের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি শ্যামল পাল এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মিলন কান্তি নাথ। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উপপরিচালক সুহিতা সুলতানা। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। এরপর শিমূল মুস্তাফার আবৃত্তি দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। আয়োজনের প্রথম দিনে  বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' পাঠ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের উপাধ্যক্ষ দেওয়ান মো. তমিজদুজ্জামান। পাঠ প্রতিযোগিতা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন অভিনেত্রী চিত্রলেখা গুহ। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিনার মনসুর।

পাঁচ দিনের এ আয়োজনে আরও অংশ নিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪০ শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' পাঠ ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরবেন তাদের শিক্ষক, অভিভাবক, সহপাঠী, অতিথি ও বিচারকমণ্ডলীর সম্মুখে। আগামী বৃহস্পতিবার শেষ হবে পাঁচ দিনের এ আয়োজন।

গানে গানে বঙ্গবন্ধু, বিশ্বকবি ও জাতীয় কবিকে স্মরণ :জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে গানে গানে স্মরণ করেছে ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। গতকাল জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনের এই আসরে অংশ নেন বাংলাদেশের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী মহাদেব ঘোষ ও ভারতের নজরুলসঙ্গীত শিল্পী সোমরিতা মল্লিক। মহাদেব ঘোষ শোনান 'ও আমার দেশের মাটি', 'তুমি আমাদের পিতা', 'আছে দুঃখ আছে মৃত্যু', 'তুমি রবে নীরবে' ও 'সকাতরে ওই কাঁদিছে'। ভারতের সোমরিতা মল্লিক গেয়ে শোনান 'আমি চিরতরে দূরে চলে যাব', 'যেদিন লব বিদায়', 'চুরির তালে নুড়ির মালা', 'রব না কৈলাসপুরে', 'ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি' গানগুলো। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আবৃত্তি পরিবেশন করেন শাহাদাত হোসেন নিপু।

মঞ্চস্থ হলো 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' :প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের নাটক 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' মঞ্চায়ন হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে নাটকের দল থিয়েটারের অন্যতম এ প্রযোজনাটির মঞ্চায়ন হয়। আবদুল্লাহ আল মামুন নির্দেশিত এ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌসী মজুমদার, কেরামত মওলা, তোফা হোসেন, ত্রপা মজুমদার, মারুফ কবির, পরেশ আচার্য, সমর দেব, খুরশীদ আলম, নুরুল ইসলাম, রাশেদুল আওয়াল শাওন, জোয়ারদার সাইফ, তামান্না ইসলাম, রুনা লায়লা, তানভীর হোসেন সামদানী প্রমুখ।