বিশ্বাসঘাতক জিয়াও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন- ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে 'বিশ্বাসঘাতক' আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ও দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন জিয়া। আর বিশ্বাসঘাতকতা করে জিয়া নিজেও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন।

গতকাল রোববার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, পঁচাত্তরের ঘাতক এবং পেছন থেকে কারা তাদের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, বিদেশে চলে যেতে সাহায্য করেছে- তাদের আমরা চিনি। তবে বঙ্গবন্ধু ও দেশের মানুষের সঙ্গে জিয়া ও তার পরিবার যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তারা সেই বিশ্বাসঘাতকতাই পেয়েছেন।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের হত্যাকারীদের সে সময় পৃষ্ঠপোষকতা করা না  হলে '৮১ সালে আরেকটি হত্যাকা হতো না। জেনারেল জিয়াকে হত্যার সাহস করত না। যারা পঁচাত্তরের খুনি, তাদেরই বুলেটে খালেদা জিয়া বিধবা হয়েছেন। আওয়ামী লীগের লোকরা জিয়াকে খুন করতে যাননি। তার আপন লোকরাই তাকে হত্যা করেছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের হত্যাকা একই সূত্রে গাথা। ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের গ্রেনেড হামলার প্রাইম টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, হাওয়া ভবনের নির্দেশেই এ হত্যাকা সংঘটিত হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হারানোর শোক জাতিকে চিরজীবন বহন করতে হবে। বঙ্গবন্ধু সাহস দেখিয়েছেন বলেই আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি। আমেরিকা-পাকিস্তান বঙ্গবন্ধু ও তার নেতৃত্বকে ভয় পেত বলেই তাকে হত্যা করেছে। তবে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ইতিহাসের মধ্যেই বেঁচে আছেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু না থাকলেও তার সুযোগ্য কন্যা এখন আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে তাকেও বহুবার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, এখনও হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পরিচালক জামিল আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এমএ কাসেম, এমএ. হাসেম, মো. শাহজাহান, মাহবুবার রহমান, রেহানা রহমান, ইয়াসমীন কামাল, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম ইসমাইল হোসেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।