ছাত্রলীগের মিছিল

শিক্ষা ভবন বিএনপি জামায়াতমুক্ত করার দাবি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

শিক্ষা ভবন হিসেবে পরিচিত 'মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে'র (মাউশি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন ধরে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে মিছিল করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুকের কক্ষে প্রবেশ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অর্ধশত নেতাকর্মী। সে সময়ে তারা এ দাবি জানান।

গত ২১ আগস্ট রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাউশির পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারসহ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ডকে 'নিছক দুর্ঘটনা' বলে মন্তব্য করেন। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশিজুড়ে। এরপর গত ২২ আগস্ট এক আদেশে পরিচালক জাহাঙ্গীরকে ওএসডি এবং স্ট্যান্ড রিলিজ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ঘটনার জের ধরেই ছাত্রলীগের কেন্দ্র্রীয় নেতাকর্মীরা গতকাল মাউশি মহাপরিচালকের কক্ষে মিছিল নিয়ে যান। ছাত্রলীগ নেতারা মহাপরিচালকের কাছে জানতে চান, ১৫ ও ২১ আগস্টের নির্মম হত্যাকা নিয়ে তামাশা করা পরিচালক জাহাঙ্গীরকে কেন এখনও বরখাস্ত করা হয়নি? ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান তারেক মহাপরিচালককে বলেন, "শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই আপনি মহাপরিচালক, অতএব আপনার যেসব কর্মকর্তা জাতির পিতার হত্যাকা ও ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে 'নিছক দুর্ঘটনা' জ্ঞান করেন তাদের শাস্তি দেওয়ার দায়িত্বও আপনার।" এই কার্যালয়ে কর্তব্যরত বিএনপি-জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলির দাবি জানান ছাত্রলীগ নেতারা। মহাপরিচালক গোলাম ফারুক ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে শিক্ষা ভবনের জামায়াতপন্থি শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের নাম জানতে চান। তখন ছাত্রলীগ নেতারা উল্টো মহাপরিচালককে উদ্দেশ করে বলেন, 'আপনার দপ্তরে কে কে জামায়াতপন্থি এটা বের করা আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।'

ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা বলেন, 'শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে জামায়াতপন্থিরা এখনও আছে। তারা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামের প্রকল্প কৌশলে আটকে দেয়, ১৫ ও ২১ আগস্টের নির্মম হত্যাকা নিয়ে মশকরা করে এবং শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত ছাত্রলীগ ব্যাকগ্রাউন্ডের কর্মকর্তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।'

ছাত্রলীগ নেতাদের দাবিগুলো অতিদ্রুত শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবকে জানাবেন বলে জানান মহাপরিচালক। তার এমন আশ্বাস পেয়ে শিক্ষা ভবন ত্যাগ করেন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।