পাঁচ শিশু ও তরুণী ধর্ষণের শিকার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

ধর্ষণের শিকার হয়েছে পাঁচ শিশু ও তরুণী। এর মধ্যে খুলনায় তরুণীকে গণধর্ষণ, পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী, কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় দুই শিশু এবং পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

সমকাল ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

খুলনা : মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার করিমতলা এলাকায় স্বামী পরিত্যক্ত এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে মামলা দায়েরের পর পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। ধর্ষণের শিকার তরুণীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, করিমতলা এলাকার সৌরভের (২৯) সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সৌরভ ওই তরুণীকে তার বাড়ির ছাদে ডেকে নেয়। সেখানে আগেই অবস্থান করা সৌরভ ও তার পাঁচ বন্ধু ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক জানান, ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ সৌরভ ও তার এক বন্ধু ইলিয়াসকে গ্রেফতার করেছে। সৌরভ করিমতলা এলাকার এনামুল হকের ছেলে এবং ইলিয়াসের বাড়ি শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালের পাশে।

পাবনা :পাবনার সুজানগর উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের হেমরাজপুর গ্রামে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। শুক্রবার দুপুরে প্রতিবেশী জয়দেব কুমার দাস (৪০) ওই শিশুকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটির বাবা ঘটনা ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি মীমাংসার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে ঘটনাটি জানাজানি হলে শনিবার সুজানগর থানার এসআই অর্জুন সাহা ঘটনাস্থল তদন্তে এসে অভিযুক্ত জয়দেবকে আটক করেন। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন ও সাবেক ইউপি সদস্য ইমরুল হোসেন সমঝোতার কথা বলে ধর্ষককে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি প্রথমে সামাজিকভাবে মীমাংসার কথা বলেছিলাম। পরে সমাধান করতে পারব না ভেবে মেয়েটির বাবাকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি। আর পুলিশ তদন্তে এলে ভিকটিমের পরিবার তখন অভিযোগ করেনি। সে কারণে পুলিশ অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়। আমি কোনো তদবির করিনি।

সুজানগর থানার ওসি শরিফুল আলম জানান, প্রথমে ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি থানায় জানাতে চায়নি। পরে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছে। আমরা ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

চকরিয়া (কক্সবাজার) :কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৯ বছরের শিশুকে এবং পেকুয়ায় ১৩ বছরের শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। চকরিয়ার ডুলাহাজারার উলুবুনিয়ায় ধর্ষণের শিকার শিশুর চাচা জানান, মা-বাবাহীন তার ভাতিজিকে নিজের বাড়িতে রেখে লালন-পালন করছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের দোকান থেকে ডাল আনতে যাওয়ার পথে এক বখাটে শিশুটিকে মুখ চেপে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি শফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিশুটি ওসিসিতে রয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার পর বোঝা যাবে, এটি ধর্ষণ

কি-না। পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পেকুয়ার গোঁয়াখালী গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ূয়া এক শিশুকে বাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে দুই যুবক। তারা হলেন- একই গ্রামের মৃত মো. আলীর ছেলে খোরশেদ ও গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ লাদেনের ছেলে মো. আরমান। তবে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দুই ধর্ষকের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে ধর্ষিতা শিশুর ভাবীর হাতে ২০ হাজার টাকা দিয়ে চলে যান স্থানীয় মেম্বার ও গ্রাম্য চৌকিদাররা। পরে ঘটনা জানাজানি হলে দুই ধর্ষককে গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ।

পেকুয়া থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন দুই ধর্ষককে গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে রয়েছে। ধর্ষিতা শিশুকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।

স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) :স্বরূপকাঠি উপজেলার ভদ্রাংক গ্রামে বাবুল মণ্ডলের ছেলে বাসুদেব মণ্ডল ও তার এক সহযোগী শনিবার এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। এ ব্যাপারে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাহফুজ জানান, ভদ্রাংক গ্রামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান দেখে ফেরার পথে ওই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষকের সহযোগী উজিরপুর উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা। ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর পাঠানো হয়েছে।

থানার ওসি কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, বাদীর অভিযোগ পেয়ে রাতেই ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ধর্ষকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।