জলবায়ু পরিবর্তনে দরিদ্র হতে পারে বিশ্বের ১০ কোটি মানুষ

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ুর প্রভাব ধীরে ধীরে সমগ্র বিশ্বের জনগণের জন্য জরুরি বাস্তবতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটা মোকাবেলায় কোনো রকম ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সাল নাগাদ উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি জনগণকে তা দরিদ্রসীমার নিচে ঠেলে দেবে।

গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপ্টেশনের (জিসিএ) প্রতিবেদনে এসব উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বের ১০টিরও বেশি রাজধানী ও নগরী থেকে মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এর স্লোগান হচ্ছে- 'অ্যাডাপ্ট আওয়ার ওয়ার্ল্ড' বা আমাদের ধরণীর সঙ্গে অভিযোজন।

জিসিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী পাঁচটি স্থানে ২০২০ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করলে এতে ৭ লাখ কোটি ডলার মোট মুনাফা অর্জিত হবে। এই ৫টি এলাকায় যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা হচ্ছে- আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো, উন্নত শুস্ক ভূমির অবকাঠামো, ম্যানগ্রোভ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদকে অধিক স্থিতিস্থাপক করতে বিনিয়োগ। মূলত বিশ্বব্যাপী অভিযোজন প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে যা প্রয়োজন এগুলো তারই অংশ।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জিসিএ নেতাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় তিনি বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, সরকার ও ব্যবসায়ীদের আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, কোনো জাতির একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়।

শেখ হাসিনা বলেন, 'কমিশনের একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশ অনেক পদক্ষেপ নিলেও অনেক কাজ এখনও বাকি রয়েছে।' তিনি বলেন, 'আমি ঢাকায় জিসিএর নতুন কার্যালয় খুলতে দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এই নতুন অফিস বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন প্রচেষ্টা এবং ধারণার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে এবং সমন্বয় সাধন করতে সহায়তা করবে এবং আমরা এখন পর্যন্ত যতটা সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করেছি তা থেকে শিক্ষা লাভ করতে এটি সারা বিশ্বের জন্য ওয়েব পোর্টাল হিসেবে কাজ করবে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সর্বোপরি, কোনো জাতিই এটি একা করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের সমগ্র বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।'

কমিশনের নেতৃত্বে আছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার বিল গেটস এবং বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও কমিশনে রয়েছেন।

গত জুলাইয়ে জিসিএর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঢাকায় দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে বান কি মুন এবং ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এই বৈঠকে যোগদানের জন্য ঢাকা সফর করেন।

প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে জিসিএর চেয়ারম্যান বান কি মুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো সীমারেখা নেই। এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা, যা কেবল বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, 'এটি

এখন ক্রমান্বয়ে পরিস্কার হচ্ছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যে পরিবর্তন এসেছে এবং আমাদের এর সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাষণ এবং অভিযোজন দুটি একই সঙ্গে চলতে পারে।