শাহ আবদুল করিমের আজ মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ২০০৯ সালের এই দিনে ৯৩ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গুণী এই ব্যক্তি। আমৃত্যু তিনি ওই গ্রামেই ছিলেন।

প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তার উজানধলের সমাধি ও বাড়ি ঘিরে জড়ো হয়েছেন অসংখ্য ভক্ত। বাড়িতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা এবং রাতভর বাউল করিমের গানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বাউল গানের কিংবদন্তি শাহ আবদুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ। আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর তোপখানা

রোডের সাংবাদিক নির্মল সেন মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এমএ জলিলের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করবেন জাতীয় পার্টির নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী।

শাহ আবদুল করিম জীবনভর তার গানে অবহেলিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির কথা বলে গেছেন। তার গানে যেমন প্রেম-বিরহ ছিল, তেমনি ছিল খেটে খাওয়া মানুষের কথা। একই সঙ্গে আধ্যাত্মিক ভাবনাও রয়েছে তার সৃষ্টিকর্মের বিশাল অংশজুড়ে। অভাব-অনটন, দুঃখ-দারিদ্র্যে বেড়ে ওঠা বাউল করিমের বয়স যখন ১২, তখন রাখালের চাকরি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী ধলবাজারের এক মুদি দোকানে কাজ নেন। দিনে চাকরি আর রাতে হাওর-বাঁওড় ঘুরে গান গাইতেন। ওই সময় গ্রামের নৈশবিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পড়াশোনা হয়নি করিমের। গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাউল, ভাটিয়ালি, পালাগান গাইতেন তিনি। পুরো ভাটি এলাকায় নাম ছড়াতে থাকে তার। এরপর বিভিন্ন আন্দোলনে গণসঙ্গীত গেয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করেন তিনি।

এদিকে শাহ আবদুল করিমের জন্মভিটায় সঙ্গীতালয় ও কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তার ভক্ত বাউলরা। এ বিষয়ে জেলা সংস্কৃতি কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল জানান, শিল্পকলা একাডেমি শাহ আবদুল করিম কমপ্লেক্স তৈরির প্রকল্প প্রস্তুত করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। চলতি বছরেই নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার কথা।