উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ তিন বছর

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল নগরী সংলগ্ন কীর্তনখোলার তীর বেপরোয়া দখলের কবলে পড়লেও তিন বছর ধরে এখানে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি জিরো টলারেন্স নীতিতে এ নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্স কয়েক দফায় সভা করলেও বিআইডব্লিউটিএর স্থানীয় কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত অবৈধ দখলদারদের তালিকাই করতে পারেনি। ফলে শুরু করা যায়নি উচ্ছেদ অভিযান।

এর আগে ঈদুল আজহার পর অভিযান শুরু করার কথা বলেছিলেন বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বশীলরা। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী, নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অভিযান শুরুর কথা বলেছিলেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বুধবার দুপুরে বরিশাল নদীবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু বলেন, জনবল সংকটের কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম পিছিয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে বিআইডব্লিউটিএর কেন্দ্রীয় দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ কর্মকর্তা জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তিনি প্রয়োজনীয় জনবল পেয়ে যাবেন। এরপর দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর পর অনুমতি পাওয়া গেলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষে আগামী মাসের মাঝামাঝি অভিযান শুরু করতে পারবেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

বিআইডব্লিউটি সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদের প্রথম ধাপে বরিশাল নদীবন্দরের পূর্ব দিকে পলাশপুর ব্রিজ থেকে দক্ষিণে যমুনা অয়েল ডিপো পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার অংশে কীর্তনখোলার উভয় তীরে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৬০ সালে মৌজা অনুযায়ী পূর্ণ জোয়ারের সময়ে নদীর তীরের জলরেখা থেকে ওপরের দিকে দেড়শ' ফুটের মালিক বিআইডব্লিউটিএ। এর মধ্যে থাকা সব স্থাপনা উচ্ছেদ করে স্থায়ী সীমানা পিলার দেওয়া হবে। উচ্ছেদ অভিযান সফল করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শহীদুল ইসলামকে প্রধান করে টাস্কফোর্স কমিটি গঠিত হয় কয়েক মাস আগে। এ কমিটি সর্বশেষ গত ২৩ জুন সভা করেছে।

এডিসি শহিদুল বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ভূমির সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করার কথা। বিআইডব্লিউটিএর স্থানীয় কর্মকর্তারা তাকে এমনটাই জানিয়েছেন। সীমানা চিহ্নিত করে দখলদারদের স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেবে বিআইডব্লিউটিএ। এরপরই

উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

বিআইডব্লিউটিএর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মামুন অর রশিদ জানান, উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পরিকল্পনা প্রণয়নের মূল দায়িত্ব বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তার। তিনি সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছেন। এ কর্মকর্তা বলেন, এবার উচ্ছেদে শক্তিশালী লং-বং ট্রাক্টর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহূত এ যন্ত্র দিয়ে বহুতল ভবন অনায়াসে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়। উচ্ছেদের পর জিপিএস সুবিধাসম্পন্ন স্থায়ী পিলার স্থাপন করা হবে। এসব পিলার কোনোভাবেই স্থানান্তর করতে পারবে না দখলদাররা।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে সর্বশেষ ২০১৬ সালে বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তখনকার জরিপ অনুযায়ী ২২০ দখলদার কীর্তনখোলা তীর দখল করে রেখেছে। তখন বন্দর সংলগ্ন রসুলপুরচরে উচ্ছেদ করতে গেলে সেখানে বাধার মুখে পড়তে হয়। সেখানকার বাসিন্দাদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মুখে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করে। ২২০ জন দখলদারের তালিকা প্রসঙ্গে বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু বলেন, ওই তালিকাটি সঠিক ছিল না। এবার নতুন করে তালিকা হচ্ছে।